বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

যে ফুটবলারকে ব্যালন ডি’অরের যোগ্য দাবিদার বললেন ফ্লিক

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

যে ফুটবলারকে ব্যালন ডি’অরের যোগ্য দাবিদার বললেন ফ্লিক

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বার্সেলোনা। দলের এই বড় জয়ের পর কোচ হান্সি ফ্লিক অকপটে জানিয়ে দিলেন, এবারের ব্যালনের ডি'অর পুরস্কারটি লামিন ইয়ামালেরই পাওয়া উচিত। 

বৃষ্টিভেজা স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু-তে ইয়ামাল ফ্রি-কিক থেকে চলতি মৌসুমে তাঁর পঞ্চম গোলটি করেন, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করান। সোমবারই বর্ষসেরা ফুটবলারের সম্মানজনক ‘ব্যালন ডি'অর’ পুরস্কারের জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে স্থান পেয়েছেন এই তরুণ তারকা। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বার্সা কোচ ফ্লিক বলেন, "অবশ্যই, সে আমার দলের খেলোয়াড়, বার্সেলোনার খেলোয়াড়। ব্যালনের ডি'অর জয় করাটা তারই প্রাপ্য। আমার জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের।" ইয়ামালের প্রশংসায় তিনি আরও যোগ করেন, "প্রতিটি ম্যাচেই ওর বিশেষ প্রতিভা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফুটবল মাঠে ও যা করে দেখায়, তা অন্য কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়। আমি মনে করি, এই সম্মান ওরই পাওনা।"

ফেইনুর্ডের বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ১২তম গোলের দেখা পেলেন ইয়ামাল। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে টিনএজার হিসেবে সর্বোচ্চ ১৩টি গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে; তাঁর সেই রেকর্ড স্পর্শ করা থেকে এই ১৯ বছর ৫৮ দিন বয়সী তরুণ আর মাত্র এক গোল দূরে আছেন।

এই ম্যাচের এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টের পর বার্সেলোনার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০১টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার (৫৪টি গোল ও ৪৭টি অ্যাসিস্ট) অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ইয়ামাল।

মৌসুমের এই দুর্দান্ত সূচনার আগে গত বছরটি রূপকথার মতো কেটেছে এই তরুণের। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতার পাশাপাশি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান তিনি, যা তাঁকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।

তবে পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপে, বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেন ছাড়াও গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে সহ প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের একাধিক তারকা খেলোয়াড় এই দৌড়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে, সোমবারের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বার্সেলোনার দুই তারকা রাফিনিয়া ও পেদ্রির নাম না থাকায় বেশ অবাক হয়েছেন ফ্লিক। জার্মান এই কোচ হতাশ কণ্ঠে বলেন, "তালিকায় না থাকার জন্য ওরা বড্ড বেশি ভালো মানের ফুটবলার। তবে আমরা তো আর এটি পরিবর্তন করতে পারি না। ওরা অসাধারণ খেলোয়াড় এবং ওই তালিকায় থাকার সব যোগ্যতা ওদের ছিল।"

বিশেষ করে বার্সেলোনার নতুন অধিনায়ক রাফিনিয়া নতুন মৌসুমে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। বুধবার রাতেও দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান; ম্যাচের প্রথম ও তৃতীয় গোলটি আসে তাঁর পা থেকেই। দলের হয়ে বাকি গোল দুটি করেন গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আসা করিম আদেইয়েমি ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

জরুরি প্রয়োজনে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে নেমে চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যেই আটটি গোল করে ফেলেছেন রাফিনিয়া। এর মধ্য দিয়ে ১৯৫০ সালের পর বার্সেলোনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মৌসুমের শুরুর টানা পাঁচটি ম্যাচেই গোল করার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়লেন তিনি।

রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফ্লিক বলেন, "আজকে মাঠেই দেখা গেছে রাফিনিয়ার খেলার তীব্রতা কতটা অসাধারণ। গভীর থেকে যখন ও আক্রমণে ওঠে এবং পেদ্রির পাস থেকে যে দ্বিতীয় গোলটি করল- তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।"

চলতি মৌসুমের প্রথম পাঁচটি ম্যাচের চারটিতেই প্রতিপক্ষের জালে পাঁচ গোল করে বল পাঠাল বার্সেলোনা; ইতিমধ্যেই সব মিলিয়ে ২২টি গোল করে ফেলেছে তারা। দুর্দান্ত এই ফর্ম ক্লাব সমর্থকদের মনে দীর্ঘ এক দশক পর আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে। বার্সা সর্বশেষ ২০১৫ সালে এই ট্রফি ঘরে তুলেছিল।

তবে ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে এখনই ভেসে যেতে রাজি নন ফ্লিক। তিনি মনে করিয়ে দেন যে মৌসুমের এখনও অনেক বাকি। ফ্লিক বলেন, "ছেলেরা যা খেলছে তা দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগছে, তবে কিছু কিছু জায়গায় এখনও আমাদের শুধরে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মাঠে খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে তাতে আমি সত্যিই খুশি, তবে উন্নতির তো শেষ নেই। পথটা এখনও অনেক দীর্ঘ।"

দলের বর্তমান মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, "সবকিছুই এখন খুব ইতিবাচক দেখাচ্ছে। আমরা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি এবং ভীষণ কঠিন অনুশীলন সেশন পার করছি। প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যেই আরও ভালো করার ও শেখার এক প্রবল ক্ষুধা কাজ করছে।"

"আমাদের দলীয় খেলায় এবং মাঠে আমরা ঠিক কীভাবে পারফর্ম করছি- তার ওপর এই মানসিকতার প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়ে। এটি খুব ভালো একটি দিক। আমাদের খেলার যে দর্শন, সেই অনুযায়ী খেলার মধ্যে এমন তীব্রতা বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে দল হিসেবে প্রতিপক্ষকে প্রেসিং করার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।"

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর