অক্টোবর এলেই ফুটবল ভক্তদের মনে একটা প্রশ্ন ঘুরতে থাকে, এবার কার হাতে উঠবে সেই সোনালি বল? ব্যালন ডি’অর। গত মঙ্গলবার ফ্রান্স ফুটবল সেই প্রশ্নের প্রথম জবাব দিয়েছে। পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এবারের আসর ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ অক্টোবর।
ফরাসি ভাষায় ব্যালন ডি’অর মানে সোনার বল। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন এটি চালু করে। তারপর থেকে প্রতি বছর বিশ্বের সেরা পুরুষ ও নারী ফুটবলারকে এই সম্মান দেওয়া হয়। শুধু ২০২০ সালে করোনার কারণে একবার বন্ধ ছিল। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ম্যারাডোনা, জিদানের মতো কিংবদন্তিরা এই পুরস্কার পেয়েছেন। এখনও এটি ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত স্বীকৃতি বলে বিবেচিত হয়। অনেকের কাছে এটি অস্কারের মতো।
বিজয়ী নির্ধারণের পদ্ধতিও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। একসময় শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়দের জন্য সীমিত থাকলেও এখন বিশ্বের যেকোনো ফুটবলার যোগ্য। ২০২২ সাল থেকে ভোটিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। পুরুষদের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেন। নারীদের ক্ষেত্রে শীর্ষ ৫০ দেশের সাংবাদিকরা। তারা ৩০ জনের তালিকা থেকে নিজেদের পছন্দ অনুসারে দশজনকে সাজান। প্রথম স্থানে ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয়ে ১২—এভাবে কমে কমে শেষে এক পয়েন্ট। সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ই বিজয়ী হন।
মূল্যায়নের মানদণ্ডও পরিষ্কার। এখন আর পুরো ক্যারিয়ার দেখা হয় না। গুরুত্ব দেওয়া হয় তিনটি বিষয়ে, আগের মৌসুমের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলের সাফল্য এবং খেলোয়াড়ের আচরণ ও ফেয়ার প্লে। এইবারের মূল্যায়নকাল ছিল ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত, যার মধ্যে বিশ্বকাপও অন্তর্ভুক্ত।
এবারের তালিকায় নাম উঠেছে হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে (গত বছরের বিজয়ী), কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসি, আর্লিং হলান্ড, লামিন ইয়ামালসহ অনেক তারকার। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের একাধিক খেলোয়াড় তালিকায় জায়গা পেয়েছে। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের প্রভাবও দেখা গেছে। তবে পর্তুগিজ রোনালদো এবার তালিকায় নেই।




