পর্তুগালের দ্য ড্রাগাও স্টেডিয়ামে আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমের সূচনা করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গুয়ার্দিওলার বিদায়ের পর সিটির ডাগআউটে বসা নতুন কোচ এনজো মারেস্কার এটি ইউরোপীয় মঞ্চে প্রথম জয়।
রেকর্ড ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের নতুন সাইনিংয়ের চমক নিয়ে মাঠে নামা সিটি ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে। লিল থেকে ৮৫.৬ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা মরোক্কান বিস্ময়বালক আইয়ুব বুয়াদ্দি, এনজো ফার্নান্দেস এবং ফিল ফোডেনের সমন্বয়ে সাজানো সিটির মধ্যমাঠ বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। তবে প্রথমার্ধে সিটিকে গোলবঞ্চিত রাখেন পোর্তোর গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
আর্লিং হালান্ডের একটি জোরালো হেড শূন্যে লাফিয়ে বাঁ হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেওয়ার পর, বুয়াদ্দি ও ফোডেনের তৈরি করা আরও একটি সুবর্ণ সুযোগে হালান্ডকে ডাবল সেভ করে হতাশ করেন এই পর্তুগিজ গোলরক্ষক।
অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই (৪৭তম মিনিটে) প্রতিরোধ ভাঙেন হালান্ড। এনজো ফার্নান্দেসের মাপা ক্রস থেকে কস্তাকে বোকা বানিয়ে হেডে বল জালে জড়ান এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার (১-০)।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে আক্রমণের ধার বাড়ায় পোর্তো। সফরকারী সিটির ডিফেন্সের কিছু মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিলেও সিটির ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার ভাগ্য ভালো ছিল। পেপেকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার উপক্রম হলেও অফসাইডের পতাকায় বেঁচে যান দোন্নারুম্মা। পরে তাঁর একটি ভুল ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে সিটির জয় সুনিশ্চিত করেন হালান্ড। বদলি নামা রিয়ান আইত-নুরির বাড়ানো নিচু ক্রস থেকে ক্লিনিকাল ফিনিশিংয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে ৫৯ গোলের অনন্য রেকর্ড গড়লেন হলান্ড। একই সাথে ১৬৭ গোল নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলেন তিনি। জাতীয় দল নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর ক্লাব ফুটবলেও প্রথম চার ম্যাচে ৫ গোল করে নিজের রাজত্ব বজায় রাখলেন এই স্ট্রাইকার।
ম্যাচ শেষে আমাজন প্রাইমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে হালান্ড বলেন, "আমাদের ওপর সবচেয়ে বড় মঞ্চে পারফর্ম করার সব চাপ থাকে এবং আজকে আমরা সেটাই করেছি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এই ধরনের ম্যাচগুলো জিততেই হয়, তা না হলে চাপ বাড়তে থাকে।"




