সাবেক এক ইসরায়েলি সেনাকে নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রচারের পর তীব্র গণবিক্ষোভ ও বয়কটের আহ্বানের মুখে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে জার্মান স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট অ্যাডিসাসের আঞ্চলিক শাখা ‘অ্যাডিডাস অ্যারাবিয়া’।
বিজ্ঞাপনটিতে শ্যা্লেভ বিটন নামে সাবেক এক ইসরায়েলি সেনাকে ফিচার করা হয়েছিল, যিনি ২০২১ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় আহত হয়ে এক পা হারান। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে তৈরি অ্যাডিসাসের "সিঙ্গেল শু" (একক জুতা) পরিষেবার প্রচারের অংশ হিসেবে এই বিজ্ঞাপনটি তৈরি করা হয়। এই সেবার মাধ্যমে জোড়া জুতার পরিবর্তে গ্রাহকরা প্রয়োজনে একটি জুতাই কিনতে পারেন।
প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অ্যাডিডাস অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, "আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি যে সম্প্রতি স্থানীয় একটি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত একটি ছবি তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমাদের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই কাউকে আঘাত করা ছিল না। এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষুব্ধ হওয়া সকলের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।" কোম্পানিটি আরও উল্লেখ করেছে যে তারা এই প্রতিক্রিয়াগুলোকে "সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে" বিবেচনা করছে।
ইসরায়েলে অ্যাডিসাসের শোরুমগুলোতে প্রদর্শিত পোস্টারে বিটনসহ ১১ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী অ্যাথলেটকে স্থান দেওয়া হয়েছিল। অ্যাডিসাস জানিয়েছে, এটি বিশ্বব্যাপী প্রচারের অংশ ছিল না বরং কেবল ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থানীয় একটি উদ্যোগ ছিল।
এই বিজ্ঞাপনটি প্যালেস্টাইনপন্থী অধিকারকর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। গাজায় চলমান হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অঙ্গহানির শিকার হলেও, তাদের বাদ দিয়ে একজন সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে পঙ্গুত্ববিষয়ক প্রচারণায় অন্তর্ভুক্ত করায় প্রশ্ন তোলেন অধিকারকর্মীরা।
চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তথ্য সংকলন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পাঁচ হাজারেরও বেশি আঘাতজনিত অঙ্গচ্ছেদ (অ্যাম্পুটেশন) এবং ২২,০০০-এর বেশি গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশই শিশু।
বিজ্ঞাপনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাডিসাস বয়কটের একটি নতুন ঢেউ তৈরি করেছে। স্প্যানিশ বিখ্যাত অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও অ্যাডিসাসের পণ্য কেনা বন্ধের আহ্বানে সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে।
অ্যাডিসাস জানিয়েছে, অঙ্গহানি বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা ব্যক্তিদের কেনাকাটা আরও সহজ করতে এই ‘সিঙ্গেল শু’ সার্ভিস প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যেও এই সেবার সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে সবার উদ্বেগ শুনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।




