ইংল্যান্ডে জাতীয় দলের সফর চলাকালীন ক্রিকেটারদের আচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির উপদেষ্টা আমির মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বোর্ডের বিদ্যমান নিয়ম ও বিধান অনুযায়ী বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
পিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য সঠিকভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে আপাতত বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বোর্ড। সাধারণ মানুষ ও অংশীদারদের কেবল অফিশিয়াল যোগাযোগের ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি আমির মীর কিছু প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত অমূলকাও যাচাইহীন তথ্য, বিশেষ করে শত্রুপক্ষীয় বাহ্যিক উৎস থেকে আসা তথ্য নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
খবর অনুযায়ী, লন্ডনে অবস্থানকালে দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা দুজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের মোবাইল ফোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং কয়েক ঘণ্টা তা রেখে দেন। যাচাইহীন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, তদন্তকারীরা লন্ডনে খেলোয়াড়দের কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সাথে তাঁদের যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।
সূত্র মতে, তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বড় অঙ্কের জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে পিসিবি এখনো খেলোয়াড়দের ফোন বাজেয়াপ্ত করা বা ডেটা পরীক্ষার বিষয়ের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
সম্প্রতি লর্ডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে চরম শোচনীয় হারের পর সফর চলাকালীনই টেস্ট স্কোয়াডের সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। একই সাথে দলটির প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরপরই শৃঙ্খলাভঙ্গের এই নতুন বিষয়টি সামনে এলো।
বোর্ড তদন্তাধীন শৃঙ্খলামূলক বিষয়ের সুনির্দিষ্ট ধরন প্রকাশ করেনি এবং জড়িত খেলোয়াড়দের নামও গোপন রেখেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানা যাবে।




