সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘ওদের সাহসও নেই, লড়াইয়ের মানসিকতাও নেই’, কাদের বললেন ডি ভিলিয়ার্স?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ওদের সাহসও নেই, লড়াইয়ের মানসিকতাও নেই’, কাদের বললেন ডি ভিলিয়ার্স?

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স মন্তব্য করেছেন যে, পাকিস্তান ক্রিকেটে বর্তমানে লড়াকু মানসিকতা, দৃঢ়তা ও চরিত্রের অভাব রয়েছে। সঠিক পথে ফিরতে দলটির ভেতর থেকেই চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের একটি নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠী গড়ে ওঠা উচিত, যারা বাকিদের পথ দেখাবে।

৪২ বছর বয়সী এই প্রোটিয়া তারকা মনে করেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে পিসিবির ক্রমাগত পরিবর্তন ও অব্যবস্থাপনার ফলেও পাকিস্তান ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অধিনায়ক হিসেবে সদ্য ফিরে আসা বাবর আজম যেন দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, "আমি সবসময় মনে করি টেস্ট ক্রিকেট হলো খেলোয়াড়ের মানসিকতা ও চরিত্রের পরীক্ষা। আর পাকিস্তান দল এই মুহূর্তে ঠিক এই জায়গাটিতেই পিছিয়ে আছে, একটু লড়াকু মনোভাব, একটু লড়াই এবং চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের একটি নেতৃত্বদানকারী দল প্রয়োজন, যারা একসাথে সিদ্ধান্ত নেবে, ‘চলো, আমরা নেতৃত্ব দিই এবং তরুণদের দেখাই যে টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি জিততে কী লাগে’"।

তিনি আরও যোগ করেন, "সম্ভবত এই জায়গাটিতেই তাদের ঘাটতি। তবে এর পেছনে ওপরের স্তরের অব্যবস্থাপনা, ঘনঘন পরিবর্তন ও নেতৃত্বের বারংবার রদবদলও একটি বড় কারণ। বাবর আজম এখন ফিরে এসেছে, তাই আশা করি সে লম্বা সময় সুযোগ পাবে, ফিট থাকবে এবং আবার নিজের সেরা ফর্মে রান করা শুরু করবে—যা সে পারে। আর দলের সতীর্থরাও তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে"।

সাবেক এই তারকা ব্যাটার মনে করেন, পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করতে পিছিয়ে পড়ছেন এবং বিশেষ করে ব্যাটাররা খুব সহজেই নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিচ্ছেন।

"আজকাল আমি খুব একটা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের আলাদাভাবে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে দেখি না। ইংল্যান্ড সফরে তাদের ব্যাটিং ইউনিটের মধ্যে সাহসিকতা ও লড়াইয়ের মানসিকতা ছিল না বললেই চলে। টেস্ট ব্যাটিং সবসময় দেখতে সুন্দর হতে হবে এমন নয়, কিন্তু সেখানে বাজেভাবে সফট ডিসমিসালে উইকেট বিসর্জন দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। দিনশেষে এটা পুরোপুরি নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়"।

নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "টেস্ট ক্রিকেটে আমি সবসময় সব পরিস্থিতিতে নান্দনিক বা দৃষ্টিনন্দন ক্রিকেট খেলতে পারিনি। মাঝে মাঝে এটি দেখা বেশ কঠিন ও কষ্টকর ছিল। আমি যদি শুধু নিজের অহংকারের (ইগো) কথা ভেবে খেলতাম, তবে অন্যরকম খেলোয়াড় হতাম। আমার ভাবনা ছিল আজ মাঠে আমি কতটুকু আত্মশক্তি ও লড়াকু মনোভাব দেখাতে পারি। প্রতিপক্ষকে নিজের চরিত্রের প্রতি হুমকি মনে করে সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতাম"।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে সফরকারী পাকিস্তানের পারফরম্যান্স তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারার পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টেও ১৯৪ রানে পরাজিত হয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা। জোড়া হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে দল থেকে ৭ জন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠায় এবং বদলি হিসেবে ৫ জন নতুন খেলোয়াড়সহ ৭ জনকে দলে ডাকে। একই সাথে দলটির প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সিরিজের শেষ টেস্ট বাকি থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও মোহাম্মদ ওয়াইস জাফরকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে শেষ দুজন কোনো ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও শাস্তির মুখোমুখি হন। তাঁদের জায়গায় সাইম আইয়ুব, আবদুল্লাহ ফজল এবং নতুন পাঁচ মুখ—আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাইদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রেজাউল্লাহকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর