ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তান ক্রিকেট যেন একদম মাটির সঙ্গে মিশে গেল। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারার পর লর্ডসেও ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হার মেনে নিতে হলো। তিন ম্যাচের সিরিজে দুই টেস্টেই হেরে সিরিজ শেষ হয়ে গেল এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। এই ধাক্কায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আর চুপ করে বসে নেই।
দলের এমন পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পিসিবি। দল থেকে সাত খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের জায়গায় নতুন সাতজনকে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের জাতীয় দলে এখনো অভিষেক হয়নি। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং সহকারী কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতার এই সিদ্ধান্তে আদৌ অবাক হননি। ‘আউটসাইড এজ’ শোতে তিনি বলেছেন, পিসিবির এক কর্মকর্তা আগেই তাকে জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তান ক্রিকেট এখন ‘ভেন্টিলেটরে’ আছে। বোর্ড বর্তমান দলের পারফরম্যান্সে একেবারে হতাশ। তাই পরিকল্পনা হলো পুরনো মুখদের সরিয়ে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়া, যারা শুধু দেশের হয়ে খেলতে চায়।
শোয়েব আখতার জানান, বোর্ডের নজর এখন ভবিষ্যতের দিকে। কর্মকর্তা তাকে বলেছিলেন, এই সফরে যাওয়া দলের কাছে কোনো প্রত্যাশা নেই। পরের প্রজন্মকে বড় মঞ্চের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি নিজে লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে গিয়ে দেখেছেন, ২৬ বছর পর সেখানে আসল উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
দলের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতাই ছিল না বলে মনে করেন আখতার। তিনি শুধু শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফের ক্যারিয়ার রক্ষার কথা বলেছেন। এদের এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি।
যে সাতজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আঘা, আলী উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও মোহাম্মদ ওয়াইস জাফর। শেষ দুজন কোনো ম্যাচই খেলেননি, তবুও দল থেকে সরানো হয়েছে।
তাদের জায়গায় এসেছেন সাইম আইয়ুব ও আব্দুল্লাহ ফজল। নতুন মুখ হিসেবে আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাইদ বাইগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজউল্লাহকে ডাকা হয়েছে। কোচিং স্টাফে সরফরাজ ও উমর গুলের জায়গায় এসেছেন হোয়াইট বল কোচ মাইক হেসন এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার অ্যাশলে নফ।




