২০২৬ বিশ্বকাপের নানা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় এ টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরেই তুমুল বিতর্কের মাঝে পড়েন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারী অংশীদারদের কাছে বিক্রি করার উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের মুখে পড়েন ফিফা সভাপতি। উয়েফা, কনকাকাফশ বেশ কয়েকটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা তাঁর পদর্যাগ দাবি করেন। তবে এসব বিতর্কের মাঝেও ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা এবং সমর্থন বজায় রেখেছে আফ্রিকা দেশগুলো। ইনফান্তিনোর প্রতি আফ্রিকা মহাদেশের এমন সমর্থনের কারণ কি?
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সৃষ্ট শাসনতান্ত্রিক বিতর্ক ও বিশ্বজুড়ে ওঠা সমালোচনার চেয়ে আফ্রিকায় ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন মহাদেশটির ফুটবল কর্মকর্তারা। বেনিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মার্কেলিন বোকোভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ফিফা নির্বাচনে সভাপতি পদে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে আফ্রিকান ফুটবলের অগ্রগতি ও বিনিয়োগের পরিমাপকেই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ২০ বিলিয়ন ডলারের 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ফুটবলের গভর্নিং বডি উয়েফাসহ বিভিন্ন সংস্থার তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। পরবর্তীতে ফিফা সভাপতি এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন এবং নিজের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। তা সত্ত্বেও উয়েফা ও বেশ কিছু বোর্ড তাঁর পদত্যাগের দাবি জানায়। তবে মহাদেশীয় ফুটবলের উন্নয়নে আরও অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতিতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন এখনও ইনফান্তিনোর পাশে অবস্থান নিয়েছে।
পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সেশনে ক্যাটোভিচে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোকোভ বলেন, "তিনি (ইনফান্তিনো) সঠিক ব্যক্তি কি না তা বলার দায়িত্ব আমার নয়, আমরা গত ১০ বছরের কাজের ট্র্যাক রেকর্ড দেখছি। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আফ্রিকান ফুটবলের অগ্রগতি। ২০২৭ নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়া হবে কি না তা বলার সময় এখনও আসেনি।"
একই সুর শোনা গেছে ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য গিডিয়ন ফোসু-র কণ্ঠে, যিনি আফ্রিকার নারী ফুটবল ও সার্বিক অবকাঠামো গঠনে ফিফা প্রধানের সদিচ্ছাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
পোল্যান্ডে আয়োজিত চলতি ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে আফ্রিক মহাদেশ থেকে চারটি দল- বেনিন, নাইজেরিয়া, ঘানা এবং তানজানিয়া অংশ নিচ্ছে। ২০ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত বাণিজ্য পরিকল্পনা প্রত্যাহারের পর এটিই ফিফার প্রথম বড় বিশ্বমঞ্চ। মাঠের এই লড়াইয়ের পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের রাজনীতিতে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে আর্থিক বিনিয়োগের দাবি আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আফ্রিকান ফুটবল প্রধানরা।
ইনফান্তিনোর আমলে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ফুটবলের উন্নয়ন ও প্রসারের পেছনে নানা ধরনের উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। এ কারণে এ মহাদেশের দেশগুলো ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন বজার রেখেছে। বোকোভ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান ফুটবলে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তবে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে এখানে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি আরও যোগ করেন, "বিনিয়োগ তো আসছেই... কিন্তু আমাদের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে, একই অভিমুখে এগিয়ে যেতে হবে এবং সেটির জন্যই আরও বেশি বিনিয়োগ দরকার। চাহিদাগুলো যখন স্পষ্ট, তখন আমাদের সেগুলো মেটাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।"
একই ধরনের মতামত প্রকাশ করেছেন ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য গিডিয়ন ফোসু। তিনি বলেন, "আমার মনে হয়, আফ্রিকায় ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানোর পেছনে ইনফান্তিনোর যে আন্তরিক আগ্রহ বা তাড়না রয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটির প্রশংসা করি। আমি আশা করি, তাঁর যে সমর্থন প্রয়োজন, তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাই সীমাবদ্ধতা বা সীমানা টেনে দেওয়ার মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠে ভাববে।"
"সুতরাং, আফ্রিকায় নারী ফুটবলের পাশাপাশি সামগ্রিক ফুটবলের সার্বিক উন্নতির জন্য যদি কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও সদিচ্ছা থাকে, তবে আমার মনে হয় সেটি সবারই সমর্থন করা উচিত।"




