ইংল্যান্ড সফরের মাঝে কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তনের দায় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন পাকিস্তান টেস্ট দলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ মাইক হেসন। টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সরফরাজ আহমেদ এবং উমর গুলকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) গ্রহণ করেছিল বলে স্পষ্ট করেছেন এই নিউজিল্যান্ডার। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রস্তুতি চলাকালীন এই মন্তব্য করেন হেসন।
প্রথম দুই টেস্টে ভরাডুবির পর পিসিবি এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপে সাতজন ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের প্রধান দুই সদস্যকে দেশে ফেরত পাঠায়। লাল বলের দায়িত্বে থাকা সাবেক প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে বাদ দিয়ে মাইক হেসন ও অস্ট্রেলিয়ান বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে হেসন বলেন, "সিরিজের মাঝামাঝি সময়ে কেউই এমন ঘটনা আশা করে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্তগুলো আমি আসার আগেই নেওয়া হয়েছিল। সরফরাজ ও গুলকে সরিয়ে আমাকে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল, তাই এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি আমি নই।"
সিরিজের শেষ ম্যাচের দলে সাতজন খেলোয়াড়কে ছাঁটাই করে আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, রেজাউল্লাহ ও উইকেটরক্ষক সাাদ বেগসহ পাঁচজন অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই দল নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে হেসন জানান, গতি, বৈচিত্র্যময় বোলিং ও স্পিন রহস্যই সবসময় পাকিস্তান ক্রিকেটের আসল পরিচয়। অভিজ্ঞতা না থাকলেও এই নতুন ক্রিকেটারদের বিশেষ কিছু করার সামর্থ্য রয়েছে এবং একাদশে সুযোগ পেলে তারা পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই ঐতিহ্যবাহী ধরন আবার ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে।
পাকিস্তানের অন্যতম সফল পেসার উমর গুলের ছাঁটাই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হেসন তাঁর প্রশংসা করেন, তবে নতুন পেস আক্রমণ গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, উমর গুল নিঃসন্দেহে একজন কিংবদন্তি বোলার, তবে নবাগত তরুণ পেসারদের গড়ে তুলতে অ্যাশলে নফকের সাথে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এজবাস্টনে শেষ টেস্টে একাদশে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সমন্বিত লড়াই উপহার দেওয়াই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।




