বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো এবং ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্বে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। উয়েফা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তথ্য প্রকাশের আবেদন করার পর, ফিফা পাল্টা নথিপত্র জমা দিয়ে অভিযোগ করেছে যে উয়েফা কোনো আইনগত সুবিচারের জন্য নয়, বরং ফিফা ও এর সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে "পরিকল্পিত অপপ্রচার" চালাচ্ছে।
বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক স্বত্ব ৪.২ বিলিয়ন ডলারে 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' এর কাছে বিক্রির একটি বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে এই বিবাদের সূত্রপাত। যদিও তীব্র বিরোধিতার মুখে গত ৩১ জুলাই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়, তবুও উয়েফা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও কলোরাডোর আদালতে জরুরি আবেদন জমা দেয়।
উয়েফার লক্ষ্য- কৌশলী বিনিয়োগকারী থ্রাইভ ক্যাপিটাল, জেপি মরগান ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য উদ্ধার করে সুইজারল্যান্ডের আদালতে ইনফান্তিনো ও অন্যান্য ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা।
মার্কিন আদালতে দাখিল করা নথিতে ফিফা উয়েফার আবেদন খারিজ বা স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে। ফিফা স্পষ্ট করে যে, উয়েফা যে সুইজারল্যান্ডীয় ফৌজদারি মামলার দোহাই দিয়ে নথিপত্র চাইছে, বাস্তবে তেমন কোনো মামলার অস্তিত্বই নেই।
ফিফার অভিযোগ, ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর একচেটিয়া প্রাধান্য ও আর্থিক আধিপত্য ধরে রাখতেই উয়েফা ফুটবল উন্নয়নের এমন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, কারণ এই তহবিলের মাধ্যমে বিশ্বের ছোট ফুটবল দেশগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠলে ইউরোপের একচ্ছত্র আধিপত্য হুমকির মুখে পড়ত।
আগামী ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির পদে চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়তে যাওয়া জিয়ানি ইনফান্তিনো বর্তমানে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছেন। উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এবং কনকাকাফও তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইনফান্তিনো আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশনের সমর্থন জোগাড় করে সরাসরি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। উয়েফা সাময়িকভাবে ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত স্থগিত করলেও, ফিফা সভাপতির ক্ষমতা সীমিত করা ও ফিফায় সংস্কার আনতে রাজপথ ও আদালত- সব পথেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।




