ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দল ও টিম ম্যানেজমেন্টে নজিরবিহীন পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন পিসিবির প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ। বার্মিংহামে সিরিজের শেষ টেস্টের আগে স্কোয়াড থেকে সাতজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তৎকালীন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে সাদা বলের কোচ মাইক হেসনের হাতে টেস্টের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়।
'জিও টিভি'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কঠোর পদক্ষেপের নেপথ্যে অধিনায়ক বাবর আজম ও বিদায়ী কোচ সরফরাজের ওপরই সরাসরি দায় চাপিয়েছেন তিনি। আকিব জাভেদ স্পষ্ট জানান যে, মাঠে সঠিক একাদশ নির্বাচন ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন অধিনায়ক ও কোচ।
তিনি বলেন, "তাদের হাতে বিকল্প হিসেবে পেস অলরাউন্ডার, দ্বিতীয় উইকেটকিপার এবং ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করার সক্ষমতাসম্পন্ন পেসার ওবাইদ শাহ ছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়নি। আমি বাবর আজম ও কোচের সাথে কথা বলে একাদশে ওবাইদকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম, কারণ বাকি পেসাররা সবাই প্রায় একই গতির। তাছাড়া আমাদের প্রথম সাত ব্যাটারের কেউই বোলিং করেন না। দলে একজন অলরাউন্ডার এবং বাড়তি গতির পেসার জরুরি ছিল, যা পুরো বোলিং আক্রমণের গতিপথ বদলে দিতে পারত। অফফর্মে থাকা সালমান আগাকে বাদ দেওয়া যেমন যৌক্তিক, তেমনই মোহাম্মদ রিজওয়ানের জায়গায় গাজী ঘোরিকে খেলানো উচিত ছিল।"
মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ওপর খোঁচা দিয়ে আকিব আরও বলেন, "যখন কোচ ও অধিনায়ক সঠিক সময়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তখন বোর্ড বা নির্বাচন কমিটিকে হস্তক্ষেপ করতেই হয়। প্রথম দুই ম্যাচেই আমরা যেভাবে হেরেছি, তাতে আমরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারিনি। পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে।"
মাঝপথে সাতজন তরুণ ও নতুন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে যুক্ত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে আকিব জাভেদ জানান, যখন সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গেছে এবং হারানোর কিছু নেই, তখন নতুনদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরখ করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এই বার্তার মাধ্যমে নিয়মিত ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফরে নিজেদের পারফরম্যান্সের মান উন্নত করা এবং লড়াই করার মানসিকতা দেখানো আবশ্যক।




