সবুজ গালিচায় আর দেখা যাবে না আকাশী-সাদা জার্সির সেই চেনা জাদুকরকে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিজের কাঁধে আর্জেন্টিনার ফুটবল উন্মাদনা বয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ জয়ের পরম তৃপ্তি আর আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে চিরস্থায়ী এক ছাপ রেখে তার এই বিদায় ঘোষণায় থমকে গেছে পুরো ক্রীড়াঙ্গন।
প্রিয় তারকার বিদায়ে যখন সাবেক সতীর্থ থেকে শুরু করে বর্তমান তারকারা আবেগে ভাসছেন, তখন ভক্ত ও গণমাধ্যমের স্পটলাইট গিয়ে পড়ে একটি বিশেষ জায়গায়। তার প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওপর।
আর্জেন্টাইন মহাতারকার অবসরের খবর যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে, ঠিক তখনই সৌদি আরব থেকে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন রোনালদো। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে কোনো দীর্ঘ স্মৃতিচারণ বা আবেগঘন বার্তা তিনি দেননি। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে আল-নাসের ক্লাবের জিমে কঠোর অনুশীলনের একটি ছবি আপলোড করেছেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। সেই ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল শুধুই একটি ছোট্ট বাক্য, ‘এগিয়ে যেতে থাকো’।
আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ একটি ফিটনেস বা ওয়ার্কআউট পোস্ট মনে হলেও, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভক্তরা এর মাঝে গভীর এক বার্তা খুঁজে পাচ্ছেন। মেসি যেখানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন, রোনালদো সেখানে নিজের ফিটনেস ধরে রেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। এই পোস্ট যেন প্রমাণ করে, বয়সের কাঁটাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পর্তুগালের জার্সিতে আরো কিছুদিন মাঠ মাতাতে চান তিনি!
এখনই জাতীয় দল থেকে বুটজোড়া তুলে রাখার কোনো ইঙ্গিত তার এই আচরণে নেই। সমসাময়িক দুই কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে ভিন্ন দুটি পথ বেছে নিলেও, রোনালদোর এই ‘এগিয়ে যাওয়ার’ মন্ত্র অন্তত এটুকু নিশ্চিত করছে যে, এই প্রজন্মের ফুটবলীয় রোমাঞ্চ এখনই পুরোপুরি ফুরিয়ে যাচ্ছে না।




