একসময় এশিয়ার বাইরে সফরকালেও প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘোরাত পাকিস্তান ক্রিকেট দল। বিশেষ করে ১৯৮০-র দশকের শেষভাগ ও ১৯৯০-এর দশকে ইংলিশ কন্ডিশনে তাদের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সেই সোনালী দিন পেরিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট এখন টানা নিম্নমুখী যাত্রায়। ঘরের মাঠ কিংবা অ্যাওয়ে সিরিজ- সবখানেই লাল বলের ক্রিকেটে তাদের লড়াই করতে হচ্ছে।
লর্ডস টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হার সেই করুণ পরিস্থিতিরই এক প্রতিফলন। বিদেশের মাটিতে খেলা শেষ ১১টি টেস্টের মধ্যে এটি পাকিস্তানের ১০ম পরাজয়। আর হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর লর্ডসেও হেরে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এর পয়েন্ট তালিকার একদম তলানিতে নেমে গেছে দলটি।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস দলের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের এমন দৈন্যদশা সম্পর্কে সবাই অবগত।
আব্বাস বলেন, "আমাদের পারফরম্যান্স সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয়। নির্বাচক কমিটি এবং এনসিএ থেকে শুরু করে সবাই এটি নিয়ে চিন্তিত। আমরা ভালো করতে পারছি না- এটি আমাদের মেনে নিতেই হবে। বোলিং, ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিং- কোনো বিভাগেই আমরা মেলে ধরতে পারছি না এবং প্রতিটি মিটিংয়ে আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করি। আমরা এটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি এবং আমাদের সত্যিই উন্নতির পথ খুঁজতে হবে।"
পাকিস্তান ক্রিকেটের চিরচেনা দুর্বলতার জায়গা 'ফিল্ডিং'-কে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেন এই ডানহাতি পেসার। তাঁর মতে, লর্ডসে ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতাই ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ছেড়েছি, যার মাশুল হিসেবে ওদের মূল ব্যাটাররা ৭০-এর বেশি অতিরিক্ত রান তুলে নিয়েছে। ওখানেই ম্যাচটি আমাদের হাত থেকে বেরিয়ে যায়, অথচ আমরা ওদের ২০০ রানের মধ্যেই গুটিয়ে দিতে পারতাম। সত্যিই এটি হতাশাজনক।"
ব্যক্তিগতভাবে মোহাম্মদ আব্বাস লর্ডসে স্বপ্নের মতো একটি ম্যাচ কাটিয়েছেন। ম্যাচে ৯টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি লর্ডসের অনার্স বোর্ডে প্রথমবার নিজের নাম লিখিয়েছেন ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে। কিন্তু দলের টানা জয়হীন পথচলা এই অভিজ্ঞ পেসারকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে।
আব্বাস বলেন, "ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমি সবসময় দলের জয়ের জন্য পারফর্ম করার চেষ্টা করি। আমি একের পর এক ম্যাচে পারফর্ম করে যাচ্ছি, কিন্তু দল জিততে পারছে না।"
বোলিং আক্রমণে অভিজ্ঞতার অভাবকেও দলের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। বাংলাদেশ সফরে অন্য রকম বোলিং কম্বিনেশন ছিল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজেও দল সাফল্য পেয়েছিল মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "ছেলেরা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।"
মোহাম্মদ আলী (৮ টেস্ট) এবং খুররম শাহজাদ (১০ টেস্ট)-এর ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা এখনও কম। এ বিষয়ে আব্বাস যোগ করেন, "আমি নিজে ৩২টি টেস্ট খেলেছি, কিন্তু আমার সাথে খেলা অন্য পেসাররা একদম নতুন। তবে সবাই নিজেকে উন্নত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে।"
টানা হারের বৃত্ত ভেঙে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে চায় পাকিস্তান। সান্ত্বনাসূচক জয়ের পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করাই এখন বাবর-আব্বাসদের মূল লক্ষ্য।




