ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় দুঃস্বপ্ন যেন কোনোভাবেই কাটছে না। প্রথম টেস্টে শোচনীয় হারের পর লর্ডসে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল সফরকারীরা। নিয়মিত অধিনায়ক বাবর আজমের ফেরাটা সমর্থকদের মনে কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও, বাইশ গজে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ব্যাটিং লাইনআপের এমন কঙ্কালসার দশা দেখে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন তাদের রীতিমতো 'দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি দল' বলে উপহাস করেছেন।
প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর লর্ডস টেস্টেও পাকিস্তানের পারফরম্যান্স চরম হতাশাজনক। প্রথম ইনিংসে তারা গুটিয়ে গেছে মাত্র ১১০ রানে। দলের বিপর্যয়ের দিনে ওপেনার আজান আওয়াইসের ব্যাট থেকে আসা ৪৬ রান ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের কোঠা পেরোনোর মতো বলার মতো রান পাননি।
প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বাবর আজম করেছেন মাত্র ৮ রান। এছাড়া আবদুল্লাহ শফিক (৫), শান মাসুদ (১) এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান (৭) উইকেটে এসে কেবল আসা-যাওয়ার মিছিলেই ব্যস্ত ছিলেন। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে ওপেনার ইমাম-উল-হকের চোট; পায়ের সমস্যার কারণে তিনি প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেই পারেননি।
পাকিস্তানের এমন হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর বিবিসির 'টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল' অনুষ্ঠানে তীব্র সমালোচনা করেছেন মাইকেল ভন। তার মতে, পাকিস্তানি ব্যাটাররা ইংলিশ পেসারদের সামনে ন্যূনতম প্রতিরোধও গড়তে পারছে না।
ভন বলেন, ‘অনেক দিন পর এমন দুর্বল ব্যাটিং লাইনআপ দেখছি। বোলাররা ভালো করেই জানে এই দল বড় স্কোর করতে পারবে না এবং ৪০-৫০ ওভারের মাঝেই অলআউট হয়ে যাবে। তাই ইংল্যান্ডের বোলাররা সহজ উইকেট পাওয়ার লোভে একে অপরের সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে।’ পাকিস্তানের এই ব্যাটিংকে কোনোভাবেই টেস্ট মানের বলতে নারাজ তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, ইংল্যান্ডের বোলারদের একেবারেই কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে না। আর বোলিং করার জন্য এই পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপ সম্ভবত সবচেয়ে সহজ ব্যাটিং লাইনআপ। শুধু তা-ই নয়, আমি মনে করি বোলার হিসেবে তারা (ইংল্যান্ড দল) সবাই বল করার জন্য যেন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ, তারা জানে, উইকেট পাবে।’
তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সূরে ভন বলেন, ‘পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কোনো ভয় নেই। এমন কোনো ব্যাটসম্যান নেই, যে ইংল্যান্ডের বোলারদের চাপে ফেলতে পারে। কেউ তাদের বোলিংয়ের পরিসংখ্যানও নষ্ট করবে না। তাই ব্যাপারটা এখন এমন—“আসুন, আসুন, কে উইকেট নিতে চান?”’
লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুঠোয়। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮১ রান তুলেছে তারা, যার ফলে লিড ইতোমধ্যেই ২৬১ রানে গিয়ে ঠেকেছে। লর্ডসে এখন ম্যাচ বাঁচানোই পাকিস্তানের জন্য এক প্রকার অসম্ভব মিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।




