অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি এবং দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি স্পিনার নাথান লায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজগুলোতে প্রতিপক্ষের পেস-বান্ধব কন্ডিশনের কারণে টেস্ট দলে তার জায়গা ধরে রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
অ্যাশেজে চোটের কারণে শেষ দুই টেস্ট মিস করার পর বাংলাদেশ সিরিজের মাধ্যমে একাদশে ফিরলেও ডারউইনে প্রথম টেস্টের পারফরম্যান্স খুব একটা নজরকাড়া ছিল না। সেখানে ১২৫ রান খরচায় তিনি পান মাত্র ১টি উইকেট, যেখানে প্রতিপক্ষের স্পিন-অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ দুর্দান্ত বোলিং তুলে নেন। এরপর ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে স্কট বোল্যান্ডকে নিয়ে চার পেসারের অল-আউট অ্যাটাক সাজানোর কথা ভাবলেও পিচের ধরণ দেখে শেষ মুহূর্তে লায়নকেই খেলায় অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় টেস্টে ৩টি উইকেট পেলেও বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে ৬৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হওয়ায় লায়নকে বেশি ওভার বোলিংই করতে হয়নি। উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেরি জানান, পেসাররা দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ায় এই ম্যাচে লায়নের বোলিংয়ের খুব একটা প্রয়োজন পড়েনি, তবে তিনি এখনও উচ্চমানের একজন বোলার।
চলতি বছরের নভেম্বরে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া লায়ন অবশ্য নিজের সামর্থ্য নিয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। ১৪৩ টেস্টে ৫৭১ উইকেট নেওয়া এই অফ-স্পিনার মনে করেন, দলের বিশেষায়িত স্পিনার বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অ্যাশেজে গাব্বা টেস্ট থেকে বাদ পড়ার পর নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে লায়ন খোলাখুলিভাবেই বলেছিলেন, দলে তার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট এবং এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া তার জন্য কঠিন ছিল।
তবে আগামী অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে নির্বাচকদের সঙ্গে আরও কিছু কঠিন আলোচনার মুখোমুখি হতে হতে পারে লায়নকে। পেস সহায়ক কন্ডিশনে স্কট বোল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি এবং ক্যামেরন গ্রিন, বিউ ওয়েবস্টারের মতো পেস-অলরাউন্ডারদের পাশাপাশি ট্র্যাভিস হেডের পার্ট-টাইম স্পিন বিকল্প থাকায় নির্বাচকদের সামনে এখন অল-পেস অ্যাটাকে যাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত।




