ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার মামলার বিচারে এক নজিরবিহীন ও চরম বিভ্রান্তিকর ভুলের কথা স্বীকার করেছে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য বীমা প্রতিষ্ঠান ‘সুইস মেডিক্যাল’। আদালতকে এক চিঠিতে তারা জানিয়েছে, আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তির মৃত্যু সংক্রান্ত তদন্তের জন্য যে মেডিক্যাল রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল, তা মূলত তার বাবা দিয়োগো সালুস্তিয়ানো ম্যারাডোনার ছিল।
সুইস মেডিক্যাল জানিয়েছে, ২০১৫ সালে প্রয়াত হওয়া ম্যারাডোনার বাবার পরীক্ষার রিপোর্টগুলো ভুলবশত "দিয়োগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা"-র ফাইলে থেকে যায় এবং তা-ই পরবর্তীতে আদালতের তদন্ত সংস্থাকে সরবরাহ করা হয়। ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর গঠিত চিকিৎসকদের সাত সদস্যের প্যানেলের এক আইনজীবী আদালতের জমা দেওয়া সেই প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক ভুলটি উন্মোচন করেন।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি জমার (একিউট পালমোনারি ইডিমা) কথা বলা হলেও, মামলার শেষ ধাপের শুনানিতে তার কিডনির কার্যকারিতা একটি প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এমনকি আদালতে উপস্থিত হওয়া একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ (নেফ্রোলজিস্ট) দাবি করেছিলেন যে, ম্যারাডোনার তৎকালীন চিকিৎসকদের তার কিডনির প্রতি আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তবে এখন নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সেই বিশেষজ্ঞও মূলত তার বাবার ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালতের কাছে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছিলেন।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশের পর আদালতের কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগে গত বছর একজন বিচারকের স্বার্থসংঘাত সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রথম বিচার প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার পর, নতুন করে এই ভুলের ঘটনাটি আদালতের জন্য চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ব্রেন ক্লটের অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস আইরেসের টিগ্রেতে একটি ভাড়া বাড়িতে মারা যান ম্যারাডোনা। তার মেডিক্যাল দলের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও চিকিৎসকরা তা অস্বীকার করে আসছেন। গত এপ্রিলে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত এই বিচার প্রক্রিয়ার কাজ আগামী বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হবে এবং অন্তর্বর্তী শুনানি অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




