ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হতেই পিচ নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। স্পোর্টস্টারে প্রকাশিত এক কলামে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সনির্ভর উইকেট নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বৈত মানদণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
গাভাস্কার লিখেছেন, গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়ায় চারটি টেস্ট দুই দিনের মধ্যেই শেষ হয়েছে। অথচ এ ধরনের ফলাফলের জন্য অতিরিক্ত বাউন্স ও গতির পিচকে খুব একটা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। ম্যাকাই টেস্টে মোট ৭৫০ বল খেলা হয়েছে। পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সংক্ষিপ্ত ম্যাচ এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ত টেস্ট। এমন পরিসংখ্যানের পর ম্যাচ রেফারি কী ধরনের প্রতিবেদন ও রেটিং দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
‘তাহলে অস্ট্রেলিয়ায় আবারও একটি টেস্ট দুই দিনে শেষ হলো। গত কয়েক বছরে এমন ঘটনা চারবার ঘটেছে। অথচ ট্রামপোলিনের মতো বাউন্স দেওয়া পিচ নিয়ে আমরা এখনো কোনো সমালোচনা শুনছি না,’ লিখেছেন গাভাস্কার।
ম্যাকাইয়ের উইকেটকে তিনি বিস্ময়কর মনে করেননি। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ের পর স্বাগতিক দলের জন্য দ্রুতগতির ও বাউন্সি পিচ তৈরি করা হয়েছিল বলেই তার ধারণা। পিচ তৈরিতে দলের সরাসরি নির্দেশনা নেই, এমন দাবিও তিনি মানতে নারাজ। তার মতে, উপমহাদেশের দলগুলো নিজেদের শক্তি অনুযায়ী উইকেট তৈরির কথা প্রকাশ্যে বললেও অস্ট্রেলিয়ার মতো পুরনো ক্রিকেট শক্তিগুলো অনেক সময় পরোক্ষভাবে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পিচ তৈরিতে প্রভাব রাখে।
ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও ব্যর্থ হওয়াকে গাভাস্কার পিচের চরিত্র বোঝার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। শুধু ব্যাটারদের বাউন্স সামলানোর দক্ষতার অভাবকে দায়ী করা যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন। স্বাগতিক ব্যাটাররাও যখন বড় জুটি গড়তে পারেন না, তখন উইকেটের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থাকা উচিত।
ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো টেস্ট তিন দিনে শেষ হলেই পিচ নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। অথচ অস্ট্রেলিয়ায় একই ঘটনা ঘটলে কেন তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না, এই প্রশ্নও তুলেছেন গাভাস্কার। ‘ভণ্ডামি এতটাই স্পষ্ট যে তা সত্যিই বিস্ময়কর,’ বলেছেন তিনি।
স্পিন খেলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড রয়েছে বলে মনে করেন গাভাস্কার। বিদেশি ব্যাটাররা উপমহাদেশে স্পিনের বিপক্ষে ব্যর্থ হলে অনেক সময় সেটিকে ব্যাটিং দক্ষতার ঘাটতি না দেখে পিচের দোষ হিসেবে দেখানো হয়। অন্যদিকে, উপমহাদেশের ধীরগতির উইকেটে বিদেশি পেসাররা উইকেট না পেলেও তাদের সামর্থ্য নিয়ে একইভাবে প্রশ্ন তোলা হয় না।
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর প্রসঙ্গে গাভাস্কার উল্লেখ করেছেন, ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩ বছর। এবারের সিরিজের ম্যাচগুলোও অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত টেস্ট ভেন্যুর বাইরে আয়োজন করা হয়েছে।
এসটি




