অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। ডারউইনে ৯ উইকেটের সেই জয়ের পর ম্যাকাইয়ে অবশ্য উল্টো চিত্র দেখল টাইগাররা। দুই দিনের ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে সফরকারীরা। তবে এমন হারের পরও আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে উঠে আসা বাংলাদেশ দলের জন্য এক "বিশাল অর্জন" বলে মন্তব্য করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ইনিংস ও ৫১ রানে অলআউট হয়ে লজ্জাজনক পরাজয়ের আক্ষেপও ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয়ের সৌজন্যে র্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থান থেকে প্রথমবারের মতো ছয় নম্বরে উঠে আসে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও ৯টি দলের মধ্যে চার নম্বরে অবস্থান করছে শান্তর দল। ২ ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর র্যাঙ্কিংয়ের এই সুখবর পান অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, "ছয় নম্বরে ওঠা অবশ্যই খুব ভালো খবর। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে পৌঁছানো আমাদের জন্য বিশাল একটি অর্জন। তবে এই টেস্ট ম্যাচটিতে আমরা যদি আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম, তাহলে আনন্দটা আরও বেশি হতো।"
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই মূল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ম্যাকাই টেস্টে স্বাগতিক পেসার মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিয়মিত খেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে অধিনায়ক বলেন, "২৩ বছর পর আমরা এখানে টেস্ট খেলতে এসেছি। এই ধরণের কন্ডিশনে এত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করা মোটেও সহজ নয়। দলের ৯০ শতাংশ খেলোয়াড়ই এর আগে এখানে খেলেনি। তারা জানত না এই ধরনের কন্ডিশন ও বোলিং আক্রমণের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়।"
নিয়মিত সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে শান্ত আরও যোগ করেন, "আমার অনুরোধ থাকবে, আমরা যেন নিয়মিত এখানে এসে খেলার সুযোগ পাই। ২৫ বা ২৩ বছর পর পর নয়, বরং নিয়মিত এই কন্ডিশনে এসে খেলতে পারলে ক্রিকেটাররা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে এবং ভালো ক্রিকেট উপহার দিতে পারবে।"




