ক্রিকেট যে কত বড় অনিশ্চয়তার খেলা, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চলমান টেস্ট সিরিজে সেটিই যেন আবার প্রমাণিত হলো। ডারউইনের প্রথম টেস্টে রূপকথার মতো এক জয় তুলে নিয়ে আকাশচুম্বী প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামতেই সেই রঙিন স্বপ্ন পরিণত হয় বিষাদে। তবে একটি ম্যাচে বিশাল ব্যবধানে হারলেও, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর ক্যাঙ্গারুদের ডেরায় গিয়ে সিরিজ ড্র করার এই অনন্য কীর্তি দেশের ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে।
ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ টেস্টের চিত্রটা ছিল একেবারেই একপেশে এবং হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচের বীরত্ব যেন নিমিষেই উধাও হয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং কিংবা বোলিং; কোনো বিভাগেই ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি সফরকারীরা। ফলাফল হিসেবে মাত্র দেড় দিনেরও কম সময়ের মধ্যে লজ্জাজনক এক হারের স্বাদ পেতে হয় টাইগারদের। কোনো রকম লড়াই ছাড়াই এক ইনিংস এবং ৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন-১৪৩ বছরের পুরোনো যে রেকর্ডে ভাগ বসালেন শরিফুল
দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতির পর নাথান লায়নের প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৮ রান করে ফিরে যান তাসকিন আহমেদ। তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৯৫ রানে ৯ উইকেট। শেষ ব্যাটার শরিফুল ইসলাম প্রথম বল ডিফেন্স করেও পরের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। এতেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে।
এই ম্যাচে মিচেল স্টার্কের দাপট ছিল অসাধারণ। দুই ইনিংসে মিলে তিনি ১০ উইকেট তুলে নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪ উইকেট। প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন পান ৩টি করে উইকেট।
আরও পড়ুন- ম্যাকাইতে বিরল রেকর্ড শরিফুলের
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। লাঞ্চের আগেই ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। স্টার্কের পরপর দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক আউট হন। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমও কামিন্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ৪৬ বলে ৩১ রান করেন তিনি। কিন্তু লায়নের বলে লং অফে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান। লিটন দাস আবারও শূন্য রানে ফিরে যান। হাসান মাহমুদ ২ রানে ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রানে আউট হন। তাইজুল ইসলামকে বোল্ড করে স্টার্ক নেন তাঁর দশম উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে টিকতে না পেরে সিরিজ ১-১ এ শেষ হলো।
এসটি




