বিশ্ব ফুটবলের তিন প্রভাবশালী সংস্থা- ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা), এশিয়ান ফুটবল কনফেকশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) মিলে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ফিফার ১২২ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে কোনো দায়িত্বরত সভাপতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে অনাস্থা প্রস্তাব আনার কোনো নজির নেই।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ন্ত্রণকারী ফিফার একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে এই তিন কনফেডারেশন। পরিচালনা পর্ষদে স্বচ্ছতা, আলোচনা ও সুশাসনের অভাব তুলে ধরে তীব্র বিরোধিতা শুরু হলে ফিফা শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
আলোচনার সাথে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “আর কোনো পথ খোলা নেই। ইনফান্তিনোকে হয় আগামী মার্চে হতে যাওয়া নির্বাচনে না দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরে দাঁড়াতে হবে, না হয় তাকে অনাস্থা প্রস্তাবের কঠিন পথ বেছে নিতে হবে।”
ফিফার সংবিধানে সরাসরি সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম না থাকলেও ফিফা কাউন্সিল যে কোনো সময় বিশেষ জরুরি কংগ্রেস (এক্সট্রাঅর্ডিনারি কংগ্রেস) আহ্বান করতে পারে। এছাড়া ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অন্তত ২০ শতাংশ (বা ৪৩টি সদস্য দেশ) যদি কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে জরুরি কংগ্রেস আহ্বানের জন্য লিখিত আবেদন জমা দেয়, তবে ফিফা তা ডাকতে বাধ্য। এই জরুরি কংগ্রেসে উপস্থিত প্রতিটি সদস্য দেশের একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে।
তবে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের ঝুঁকিও দেখছেন অনেকে। বিরোধীদের আশঙ্কা, অনাস্থা ভোট যদি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে তা ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসমর্থন আরও জোরদার করবে। ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে পুনরায় সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন এবং আফ্রিকা ফুটবল কনফেডারেশনসহ (সিএএফ) অনেক সদস্য দেশের জোরালো সমর্থন এখনও তার পক্ষে রয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর সংগঠন 'ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস' (ইএফসি), যার নেতৃত্বে রয়েছেন পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি এবং যাতে ৮০০টিরও বেশি ক্লাব যুক্ত রয়েছে, ফিফাকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে যে, সুশাসন নিশ্চিত করা না হলে তাদের অন্তর্ভুক্ত ক্লাবগুলো ভবিষ্যতের বিশ্ব ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সাবেক মার্কেটিং প্রধান মাইকেল পেইন রয়টার্সকে বলেন, সামান্য ব্যবধানে নির্বাচনে জয় পেলেও বিশ্বের বড় ফুটবল শক্তিগুলো যদি বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তবে প্রশাসনিক পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে আগামী ১৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেননি।




