হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনে ইংল্যান্ডের দুই পেসার ওলি রবিনসন ও জশ টংয়ের অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছিল যেন তারা স্বপ্নের মতো একদিন পার করছেন। দুজনেই পাঁচটি করে উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১৭১ রানে অলআউট করে দিয়েছেন। এতে করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে চলে গেছে।
ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলারদের জন্য ম্যাচের বলটি স্মারক হিসেবে রাখা একটা পুরনো রীতি। কিন্তু যখন দুজনই সমান পাঁচ উইকেট নেন, তখন সেই বল কার কাছে যাবে? জশ টং হাসিমুখে ব্যাপারটা পরিষ্কার করেছেন। প্রথমে বলটি রবিনসন নিজের কাছে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাঠের গ্রাউন্ডসম্যান এক অনন্য সমাধান বের করেন, তিনি বলটিকে সমান দুই ভাগে কেটে দুজনকেই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দিয়ে দেন।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট। সেই সিদ্ধান্তকে প্রথম বলেই সঠিক প্রমাণ করেন ওলি রবিনসন। ইনিংসের প্রথম বলেই তিনি আজান আওয়াইসকে এলবিডব্লিউ করে আউট করেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট সিরিজের প্রথম বলেই উইকেট পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
পাকিস্তান মাত্র ছয় রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। এরপর ইমাম-উল-হক (৪২) ও আবদুল্লাহ শফিক (৬১) তৃতীয় উইকেটে ৯১ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চোট সেরে উঠে বোলিংয়ে ফেরা জশ টং ইমামকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ আউট করে সেই জুটি ভেঙে দেন।
এরপর রবিনসন ও টংয়ের পেস আক্রমণ পাকিস্তানের মিডল ও লোয়ার অর্ডারকে ধ্বংস করে দেয়। রবিনসন ৫১ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফাইভ-উইকেট হল সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে টং নিখুঁত লাইন-লেংথে বল করে ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট তুলে নেন। সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররাও তার শিকার হন। ফলে পাকিস্তান ১৭১ রানেই ইনিংস শেষ করে।
জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুতেই বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলিকে হারায়। কিন্তু তিন নম্বরে নামা জর্ডান কক্স ও অভিজ্ঞ জো রুট দলের হাল ধরেন। দিন শেষে তারা ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে অপরাজিত থাকেন। রুট ৩৭ ও কক্স ২৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং চালিয়ে যাবেন। এই জোড়া ফাইভ-উইকেট হলের জোরে ইংল্যান্ড দিনশেষে দুই উইকেটে ১১২ রান তুলে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে




