বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আনন্দ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়ের মতো: সিমন্স

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর আনন্দ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়ের মতো: সিমন্স

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এমন মুহূর্ত খুব বেশি আসেনি। ডারউইনে নয় উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পর তাই শুধু একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দে থেমে থাকতে চাইছে না টাইগাররা। ইতিহাসের এই মুহূর্তকে সিরিজ জয়ের স্মৃতিতে পরিণত করতে চান প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তবে আনন্দের জোয়ারে ভেসে না গিয়ে পরের টেস্টে একই মানসিকতা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তিনি। রেভস্পোর্টজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় তাঁর টেস্ট কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন।

সিমন্স বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি অবশ্যই সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ নয়। তবে গত এক-দুই বছরে আমাদের টেস্ট দল ধীরে ধীরে উন্নতি করেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচে হেরেছিলাম, কিন্তু তার আগে আমরা ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলেছি। ফলে দলের আত্মবিশ্বাসও তৈরি হচ্ছিল।’

আরও পড়ুন- ‘লর্ড’ উপহাস থেকে সফলতম মুকুট, শান্তই কি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা?

ডারউইনের ম্যাচের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো না হলেও সেটি দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিতে পারেনি বলেও জানান সিমন্স। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলাটাই ক্রিকেটারদের জন্য যথেষ্ট অনুপ্রেরণা ছিল। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। 

সিমন্স মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে গিয়ে বাংলাদেশের আর শুধু টিকে থাকার জন্য খেললে হবে না; জয়ের সামর্থ্যও দেখাতে হবে। দলে পেসার নাহিদ রানাকে না পাওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর কথায়। তবে অন্য তিন পেসার নিজেদের নিয়ন্ত্রণ, ধারাবাহিকতা ও নিখুঁত বোলিং দিয়ে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করেছেন বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন-যে তিন দেশে এখনো জিততে পারেনি বাংলাদেশ 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল ক্রিকেটারদের মানসিক নিয়ন্ত্রণ। কয়েকটি উইকেট পাওয়ার পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বসিত না হয়ে কিংবা উইকেট না এলে হতাশ না হয়ে একই ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে দল।

সিমন্স বলেন, ‘আমরা অনেক সময় সকালে চার-পাঁচটি উইকেট পাওয়ার পর সেটাকেই ধরে রাখি। কিন্তু এবার চেষ্টা করেছি লাঞ্চ ও চা-বিরতির সময়ও নিজেদের একই মানসিক অবস্থায় রাখতে। উইকেট পেলেও আবেগ বেশি বাড়তে দিইনি, আবার উইকেট না পেলেও নিচে নামতে দিইনি।’

তাঁর মতে, ক্রিকেটে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সিরিজের পরের টেস্টের আগে এটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্সও বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হওয়া মিরাজকে নিয়ে কোচের কণ্ঠে ছিল উচ্ছ্বাস।

সিমন্স বলেন, ‘মিরাজ অসাধারণ। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে তার অবস্থান দিন দিন আরও শক্ত হচ্ছে। ওয়ানডেতে সে ইতোমধ্যে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। টেস্টেও সে এগিয়ে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন-টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে বাংলাদেশের যে সমীকরণ

বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের অফস্পিন তাঁকে মুগ্ধ করেছে। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো থাকা সত্ত্বেও স্টিভ স্মিথের মতো ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা মিরাজের বোলিংয়ের উন্নতির প্রমাণ বলে মনে করেন সিমন্স।

ঐতিহাসিক জয়ের পর সাধারণত বড় উদযাপনের অনুমতি দেন না সিমন্স। কারণ সিরিজ তখনও শেষ হয়নি। কিন্তু এবার ক্রিকেটারদের আনন্দ আটকাতে পারেননি তিনি। ‘আমি সাধারণত বড় কোনো উদযাপনের অনুমতি দিই না, কারণ সামনে ম্যাচ থাকে। কিন্তু এবার নিজেকেও আটকে রাখতে পারিনি। ড্রেসিংরুমে বসে শুধু ছেলেদের আনন্দ করতে দেখেছি। কারণ জয়টা সত্যিই অনেক বড়,’ বলেন তিনি।

বিশেষ করে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের আনন্দ তাঁকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে। দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অনেক কঠিন সময় পার করা মুশফিকের মুখে এমন আনন্দ দেখে নিজেরও ভালো লেগেছে বলে জানান বাংলাদেশের কোচ। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশে যে উৎসব হয়েছে, সেটিও সিমন্সের নজর এড়ায়নি। ঢাকার রাস্তায় মানুষের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জয়ের পর বাংলাদেশের মানুষের উদযাপনের তুলনা করেছেন তিনি।

সিমন্স বলেন, ‘আমরা এই আনন্দের তুলনা করছিলাম ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ জয়ের সাথে! কারণ বিশ্বকাপে ঢাকার রাজপথের দৃশ্যগুলো ছিল অবিশ্বাস্য। গতকাল আমরা বলছিলাম, পরিবেশটা ঠিক তেমনই রূপ নিয়েছে। মানুষ আনন্দ করছে, বাংলাদেশ থেকে এত এত বার্তা পেয়েছি; সবকিছুই দারুণ। অনেকেই হয়তো বিশ্বাস করতে পারেনি যে এমন কিছু সম্ভব, তাও আবার এই সফরে। বাংলাদেশের মানুষের মনে এখন কী অনুভূতির দোলাচল চলছে তা আমি অনুধাবন করতে পারি, কারণ আমার নিজের অনুভূতিটাও ঠিক তেমনই।’

এক টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে গেলেও কাজ এখনও শেষ হয়নি, এটি খুব ভালোভাবেই জানেন সিমন্স। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়া পরের ম্যাচে আরও শক্তভাবে ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সিরিজ জিততে পারি, তাহলে ব্যাপারটি আরও বড় হবে। তবে এখনো একটি টেস্ট বাকি। এই ম্যাচে যে মান ধরে রেখেছি, পরের ম্যাচেও সেটাই ধরে রাখতে হবে।’

সিরিজ জিততে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ সামনে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর সেই সিরিজের প্রথম টেস্টে মিরপুর স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে; এমন প্রত্যাশাও করছেন সিমন্স।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর