ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো যাতে পরবর্তী মেয়াদের জন্য আবারও নির্বাচন করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে তাকে 'অযোগ্য' ঘোষণার জন্য ফিফার কাছে আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার। সংস্থাটির মতে, ফিফার সংবিধানে নির্ধারিত সর্বোচ্চ তিন মেয়াদের সীমা ইতোমধ্যে পূর্ণ করেছেন ইনফান্তিনো।
ফিফার নিয়মানুসারে কোনো সভাপতি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারেন না। তবে ২০২২ সালে ইনফান্তিনো যুক্তি দেখান যে, ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর দায়িত্ব নেওয়া তার প্রথম তিন বছরের সময়কালটি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ ছিল না, বরং তা ছিল একটি অসমাপ্ত মেয়াদ পূরণ।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে ইনফান্তিনোর এই যুক্তি মেনে নেয়, যার ফলে তার প্রথম মেয়াদটি তিন মেয়াদের হিসাব থেকে বাদ পড়ে যায়। দ্য অ্যাথলেটিক-এ প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে ফেয়ারস্কয়ার ফিফার 'গভর্ন্যান্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটিকে' পাঠানো চিঠিতে জানায়, এই সিদ্ধান্তটি ফিফার সংবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ফেয়ারস্কয়ারের পরিচালক নিকোলাস ম্যাকগিহান বলেন, “আমরা যে অভিযোগ দায়ের করেছি তাতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে এটি নিয়মের একটি মারাত্মক লঙ্ঘন এবং এটি একটি খুবই বিপজ্জনক পূর্বদৃষ্টান্ত স্থাপন করে। নিয়মাবলীতে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে সভাপতির সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে তিনবার। প্রথম মেয়াদ গণ্য হবে না, এ কথা বলে ফিফা সাধারণ উপায়ে সভাপতির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মটিকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তারা যে এই দাবির সপক্ষে কোনো যুক্তি বা ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেনি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের মাত্র দুই দিন আগে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল, তা থেকেই স্পষ্ট যে প্রথম মেয়াদ বাদ দেওয়ার মতো কোনো ভিত্তি তাদের ছিল না।”
চিঠিটি তৈরিতে সহায়তা করা ফিফার স্বাধীন গভর্ন্যান্স ও রিভিউ কমিটির সাবেক প্রধান মিগুয়েল মাদুরো এক বিবৃতিতে বলেন, “ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালের সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি মূল স্তম্ভ ছিল মেয়াদ নির্ধারণের নীতি। নিয়মটি একেবারেই স্পষ্ট—কোনো ফিফা সভাপতি তিন মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। ইনফান্তিনোর জন্য এই নিয়মে ব্যতিক্রম খোঁজার অপচেষ্টা এটিই প্রমাণ করে যে, ফিফার কেউ কেউ নিয়মকে নিয়ম হিসেবে না দেখে কেবল বাধা হিসেবে দেখে যা পাশ কাটানো দরকার।”
২০২৭-৩১ মেয়াদের নির্বাচনের লড়াইয়ের আগে ইনফান্তিনোর ওপর বৈশ্বিক চাপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোতে ফিফা কংগ্রেসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইউয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ যৌথভাবে ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার দাবি জানায়। ফিফা নিজস্ব টুর্নামেন্টগুলোর মালিকানা বেচে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ টানার প্রস্তাব দেওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সূত্রমতে, এই তিন কনফেডারেশন চিঠিটিকে ইনফান্তিনোর সম্মানের সাথে সরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।
স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল গত সোমবার নিশ্চিত করেছেন যে তারা ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দেবেন না। তবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন এখনো তার পেছনে রয়েছে। এ বিষয়ে ফিফার কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে ২০২২ সালে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের ওপরই অটল রয়েছে ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।




