ফিফার অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। সংস্থার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামোরের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছে ফিফা। সোমবার সংস্থার এক মুখপাত্রের বরাতে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, “১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ফিফা এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে কেভিন লামোরের মধ্যকার পেশাগত সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। ফিফা তাঁর দুই বছরের সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে তাঁর মঙ্গল কামনা করছে।”
আরও পড়ুন-বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে দলে পরিবর্তন আনল অস্ট্রেলিয়া
লামোরের চাকরি যাওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)। পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর লামোর কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই উদ্যোগ সম্পর্কে ফিফার প্রশাসনকে প্রতারণার শিকার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইনফান্তিনো নিজেকেই ফিফার প্রতিচ্ছবি বলে মনে করেন, অথচ তাঁর কাজ হওয়া উচিত সংস্থার সেবায় নিয়োজিত থাকা।
চাকরি হারানোর ঝুঁকি জেনেও লামোর তাঁর অবস্থান থেকে সরেননি। তিনি বলেছিলেন, “যদি এর অর্থ হয় আমি চাকরি হারাব, তাহলে তাই হোক। আমি সেই সিদ্ধান্ত বুঝব এবং সম্মান করব। অন্তত রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারব।”
আরও পড়ুন-দুই স্ত্রীর সংঘর্ষে অজ্ঞান হয়ে গেলেন কোচ, প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স!
কেভিন লামোর ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফায় যোগ দেন। উপ-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফায় যোগ দেন তিনি। সংগঠনের কাঠামোতে তাঁর পদমর্যাদা ছিল ইনফান্তিনোর ঠিক দুই স্তর নিচে। চলতি মাসের শুরুতে মরক্কোয় শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে ইনফান্তিনোর বৈঠকে লামোরকে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি বলে বিবিসি স্পোর্ট জানিয়েছে।
ফিফা লামোরকে বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। তবে সংস্থার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের কাছে পাঠানো ই-মেইলে জানিয়েছেন যে, লামোর সংস্থাটি ছেড়ে যাচ্ছেন।




