সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্বপ্নের ক্লাব রিয়ালকে ফিরিয়ে যে কারণে বার্সায় গেলেন বিশ্বকাপজয়ী রদ্রি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

স্বপ্নের ক্লাব রিয়ালকে ফিরিয়ে যে কারণে বার্সায় গেলেন বিশ্বকাপজয়ী রদ্রি

শৈশব থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সি গায়ে বার্নাব্যুতে নায়ক হয়ে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখতেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রি হার্নান্দেজ। এই গ্রীষ্মে সেই স্বপ্ন পূরণের দরজাও খুলে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে। অর্থের হিসাব নয়, দুই ক্লাবের আগ্রহ আর প্রকল্পের স্পষ্টতাই তার সিদ্ধান্তকে বদলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা।

বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে বার্সেলোনা প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ ইউরোর (৬ কোটি সরাসরি ও বাকি সহজে অর্জনযোগ্য বোনাস) সমঝোতায় পৌঁছেছে। ৩০ বছর বয়সী রদ্রির সঙ্গে চার বছরের চুক্তিও প্রায় চূড়ান্ত। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি, তবে তিনি শিগগিরই ক্যাম্প নৌতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৯ সালে প্রথমবার রিয়ালে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। তখন টনি ক্রুস, লুকা মদরিচ ও কাসেমিরোর মধ্যমাঠে জায়গা না পেয়ে তিনি সিটিতে চলে যান। সেখানেই পেপ গার্দিওলার অধীনে বিশ্বসেরা মিডফিল্ডারে পরিণত হন, ব্যালন ডি’অর জেতেন এবং এবার স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে অধিনায়ক হিসেবে গোল্ডেন বলও পান।

এবারের পরিস্থিতি আলাদা ছিল। সিটির চুক্তির শেষ বছর, গার্দিওলার বিদায় এবং বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে দলবদলের বাজারে নিয়ে আসে। রিয়াল সমর্থকরাও তাকে চেয়েছিলেন। কিন্তু মার্কার বিশ্লেষণ অনুসারে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে পর্যন্ত রিয়াল পুরোপুরি নিশ্চিত ছিল না। ভালদেবেবাসে তার খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—‘সে বল পায়ে বেশি সময় রাখে। আমরা যে ধরনের খেলোয়াড় চাই, সে তেমন নয়।’ রিয়াল আরও গতিশীল ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী মিডফিল্ডার খুঁজছিল। অথচ বিশ্বকাপে রদ্রি এক আসরে সর্বাধিক পাস সম্পন্ন করেন এবং সফল পাসের হার ছিল ৯৩ শতাংশের বেশি।

বিশ্বকাপের পর ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও হোসে আনহেল সানচেজ যোগাযোগ করেন। কিন্তু রিয়ালের সাধারণ সর্বাত্মক আগ্রহ রদ্রির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। অন্যদিকে বার্সেলোনা শুরু থেকেই পুরো জোরে মাঠে নামে। হুয়ান লাপোর্তা, ডেকো, হানসি ফ্লিক এবং দলের একাধিক খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। নতুন প্রকল্পে তার ভূমিকা স্পষ্ট করে জানানো হয়।

দুই ক্লাবের আর্থিক প্রস্তাব প্রায় সমান ছিল। তাই অর্থ নয়, ফুটবলীয় প্রকল্পই সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। রদ্রির বলনির্ভর স্টাইল বার্সার কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে যায়। পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামালসহ বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থদের সঙ্গে খেলার সুযোগও থাকে। রিয়ালের মধ্যমাঠের ভবিষ্যৎ ও নিজের ভূমিকা নিয়ে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি সানচেজকে ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়ে রিয়ালে না যাওয়ার কথা জানান।

মার্কার মতে, রিয়াল তাকে প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ না দেখে শুধু বাজারের সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। বার্সেলোনা কোনো দ্বিধা না দেখিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগায়। ফলে শৈশবের স্বপ্নের ঠিকানা বদলে যায়—বার্নাব্যুর বদলে এখন ক্যাম্প নৌ।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর