অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের আনন্দ এখনো শেষ হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। ডারউইনের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এখন আর দূরের নয়। মাত্র এক ম্যাচ জিতলেই কিংবা ড্র করলেও সিরিজ নিজেদের করে নিতে পারবে টাইগাররা। আর এই স্বপ্নের কেন্দ্রে রয়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।
মিরাজ নিজেও সেই সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তবে তিনি সতর্ক। প্রথম টেস্টের জয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগে না গিয়ে ম্যাকাইয়ের চ্যালেঞ্জের দিকেই মনোযোগ দিতে চান তিনি। আইসিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিরাজ বলেন, “অবশ্যই আমরা সিরিজ জেতার কথা ভাবছি। যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি, সেটিতেই মনোযোগ ধরে রাখতে চাই। প্রথম ম্যাচ জেতার পর সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। টেস্ট ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। এই মুহূর্তে আমরা এই ছন্দটা ধরে রাখতে চাই।”
ডারউইন টেস্টে মিরাজের অবদান ছিল অসাধারণ। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক করার পর বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন পাঁচ উইকেট। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন হাসান মাহমুদ ও তানজিদ হাসান। হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেটসহ ম্যাচে মোট নয় উইকেট শিকার করেন। আর তানজিদ হাসান দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে ইনিংসকে মজবুত করেছিলেন।
অথচ এই জয়ের আগে পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও দলের ম্যানেজমেন্ট বিশ্বাস হারায়নি। মিরাজ জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে ম্যানেজার নাফিস ইকবাল তাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এবং নেটে বোলিংও করেছেন।
স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন মিরাজ। প্রস্তুতি ম্যাচের পর মুশতাক প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, “বিশ্বাস রাখো। তুমি যদি বিশ্বাস করো, তাহলে জেতা সম্ভব। বিশ্বাস তোমাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।” সেই ছোট ছোট কথার প্রভাবেই দল আবার বিশ্বাস ফিরে পায়। মিরাজের ভাষায়, “সেই ছোট বিষয় থেকেই আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম। আর আজ আপনারা সবাই এর ফল দেখতে পাচ্ছেন।”
এখন সামনে ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট, যা শুরু হবে ২২ আগস্ট। অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাও জোরালো হবে।




