ডারউইনের নীল আকাশের নিচে যেন নতুন এক ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ক্যাঙারু বাহিনীর ডেরায় গিয়ে তাদেরই মাটিতে চেপে ধরেছে টাইগাররা। ২২৮ রানের পাহাড়সম লিড নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ এখন জয়ের খুব কাছাকাছি। মেহেদী হাসান মিরাজের বিষাক্ত ঘূর্ণি আর তাসকিন আহমেদের গতির তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। তবে এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে টাইগারদের জয়ের পথে একাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্যামেরন গ্রিন, তুলে নিয়েছেন লড়াকু এক সেঞ্চুরি।
চতুর্থ দিনের সকালে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই অজি ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের প্রথম সাফল্যটা এনে দেন মিরাজই। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের বিশ্বস্ত গ্লাভসে বন্দী করে তিনি সাজঘরে ফেরান ৩০ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে। এরপর মিরাজের বলের বাঁক বুঝতে না পেরে সরাসরি বোল্ড হন বিউ ওয়েবস্টার (৫)। অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও (৮) শর্ট লেগে ক্যাচ বানিয়ে স্বাগতিকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন এই ডানহাতি স্পিনার।
২০৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া যখন ইনিংস হারের শঙ্কায়, ঠিক তখন অষ্টম উইকেটে মিচেল স্টার্ককে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। এই জুটির দৃঢ়তায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বিশাল লিড টপকে যায় স্বাগতিকরা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে লিড এনে দেন তারা।
লাঞ্চ বিরতির পর বল হাতে আগুন ঝরাতে শুরু করেন তাসকিন আহমেদ। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তিনি পরাস্ত করেন স্টার্ককে। ব্যক্তিগত ১৮ রানে স্টার্ক উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে অজিদের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে অজিদের মান বাঁচানোর একক লড়াই চালিয়ে যান গ্রিন। তাসকিনের বলেই দুই রান নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের লিড পার করলেও তাদের লিড এখনো খুব একটা বড় হয়নি। ক্রিজে সেঞ্চুরিয়ান গ্রিন থাকলেও, ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এক টেস্ট জয়ের ক্ষণগোনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র দুটি উইকেট তুলে নিতে পারলেই অজিদের মাটিতে নতুন এক রূপকথার জন্ম দেবে টাইগাররা।




