২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া, পিছিয়ে আছে ৬৭ রানে। টাইগার বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ে সাজঘরে ফিরেছেন স্টিভ স্মিথও। নাজমুল শান্তদের সামনে তাই ম্যাচ জয়ের সুযোগ আছে বেশ ভালোভাবেই।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে দুর্দান্ত এক ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ দল। সেই ইতিহাসে তানজিদ তামিমের অবদানের কথাও লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরেই। তবে ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতুক বাঁ না জিতুক- এর আগেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন টাইগারদের তরুণ এই ওপেনার। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অজিদের মাটিতে টেস্ট শতক হাঁকিয়েছেন তিনি।
এদিকে অসাধারণ সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়লেও তামিমের কাছে আরও বেশি কিছুই চান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি। তাঁর এই চাওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নামও। পেসার হলেও নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট গিলেস্পি খেলেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই। ২০০৬ সালে চট্টগ্রামে সেই ম্যাচে ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে ব্যাটিংয়ে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

নিজে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন বলে এখন টেস্টে কেউ ডাবল সেঞ্চুরি করলে তাকে শুভেচ্ছা জানান গিলেস্পি। তামিমকেও ডারউইনে এভাবেই ডাবল সেঞ্চুরির শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন বলেই ভেবেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
এরপর তাই তামিম সেঞ্চুরি করলে তাঁর কাছে ডাবল সেঞ্চুরির প্রত্যাশা জানিয়ে রাখলেন গিলেস্পি। তাঁর ভাষায় যেটা ‘ড্যাডি হানড্রেড’। তামিমের সেঞ্চুরি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গিলেস্পি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম তানজিদ আমার সঙ্গে (ডাবল সেঞ্চুরি ক্লাবে) যোগ দেবে। কিন্তু এরপর সে বড় একটি স্লগ খেলার চেষ্টা করল এবং আউট হয়ে গেল। তার আদর্শ একটি সুযোগ ছিল, সে দারুণ ব্যাটিং করেছে। কোচিং স্টাফরা তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে পারতেন, “দেখো, ১০০ রান করে তুমি আসল কঠিন কাজটা করে ফেলেছ। এখন অনেক সহজ, শুধু বোলিংটা দেখে দেখে রান নিতে থাকো এবং বড় স্কোর করো, ১৫০-এর বেশি রান করো।” কারণ, এ ধরনের ইনিংসই আপনাকে টেস্ট ম্যাচ জেতায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘১০০ রান করার পর আপনার দায়িত্ব হলো বড় একটি ১০০-তে যাওয়া, শুধু ১০১ করা নয়। এটাই তার প্রতি আমার প্রত্যাশা। আপনি আবার সেই অবস্থানে গেলে অস্ট্রেলিয়াকে তার মূল্য দিতে বাধ্য করুন। আমরা যাকে “ড্যাডি হান্ড্রেড” বলি—সেই বড় ড্যাডি হান্ড্রেড করুন।’




