বিশ্বকাপের হতাশা এখনও মন থেকে মুছে যায়নি ব্রাজিল তারকা দানিলোর। ফ্লামেঙ্গোর অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার প্রথমবারের মতো খোলাখুলি কথা বলেছেন সেই অভিমান নিয়ে। তার কথায়, ব্রাজিল দল নিজেদের পুরো সামর্থ্য কাজে লাগাতে পারেনি।
উদ্যোক্তা পেদ্রো পিরিমের সঞ্চালনায় ‘ও প্রক্সিমো পাসো’ ভিডিওকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দানিলো জানান, টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে অনেকদিন পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতিগুলো এখনও তাকে ভাবায়। তিনি বলেন,‘এতদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও বিশ্বকাপের সেই স্মৃতিগুলো এখনো আমাকে ভাবায়। এটি ছিল সত্যিই অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রতিযোগিতার আগে খুব কম মানুষই ব্রাজিলকে ফেভারিট বলেছিল। কিন্তু আমাদের জার্সির ইতিহাস আর দলের শক্তিমত্তা বলছিল যে, আমরা আরও অনেক দূর যেতে পারতাম। ব্যক্তিগত এবং দলীয় উভয় ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের সম্ভাব্য সেরাটা দিতে পারিনি, যা মেনে নেওয়া আরও কঠিন করে তুলেছে।’
সমর্থকদের কথাও উঠে এসেছে তার কণ্ঠে। দানিলো বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমাদের সমর্থকরা আরও বেশি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। ফুটবল মানুষকে আনন্দ দেয়, একসূত্রে বাঁধে। দেশ যখন কঠিন সময় পার করছে, তখন অন্তত তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছিলাম আমরা। এই ব্যর্থতার গ্লানি দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে।’
জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী বিশ্বকাপ চক্র শুরু থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে সাজানো দরকার। শুধু কৌশলগত প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। খেলোয়াড়দের মধ্যে জার্সির প্রতি টান আর দেশের মানুষের অনুভূতি বোঝার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ‘এমন খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে, যারা এই জার্সির সঙ্গে এবং সাধারণ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হতে পারবে। শুধু ফুটবল খেলি, সামাজিক সমস্যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, এই মানসিকতা ঝেড়ে ফেলতে হবে,’ বলেন তিনি।
একজন খেলোয়াড় যখন ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দেন, তখন তিনি কার প্রতিনিধিত্ব করছেন সেটা বোঝাটাই বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। দেশ, সমাজ, নিজের শহর কিংবা সেই শিশুদের জন্য যারা ব্রাজিলের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে; এসব জানলে অনুপ্রেরণা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
মাঠের ফুটবলের পরের জীবনের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দানিলো। তিনি ফুটবলের সঙ্গেই থাকতে চান, তবে কোন ভূমিকায় সেটা এখনো ঠিক করেননি। ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফুটবল তাকে আর্থিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই খেলা ছাড়ার পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের উন্নয়নে অবদান রাখাটাই যৌক্তিক মনে করেন তিনি।
পেশাদার ফুটবলের বাইরে নিজ শহর বিকাস-এ ‘ও ফুতুরো রেদন্দো’ নামের সামাজিক প্রকল্পে যুক্ত আছেন তিনি। প্রায় ২০০ পরিবারকে খেলাধুলা, মানসিক সহায়তা, চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে থাকেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
ফ্লামেঙ্গোর প্রতি তার আবেগও ফুটে উঠেছে সাক্ষাৎকারে। পোর্তো আলেগ্রেতে ইন্টারন্যাশনালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে নিজের জার্সির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার একটি মুহূর্তের কথা স্মরণ করেন তিনি। বলেন, ‘কেউ যদি ক্যারিয়ারের শুরুতে বলত যে আমি বড় বড় ক্লাবে খেলে শিরোপা জিতব আর শেষে প্রিয় দল ফ্লামেঙ্গোতে ক্যারিয়ার শেষ করব, তাহলে তখনই সেই চুক্তিতে সই করে দিতাম। শৈশবে যে দলের গোল উদযাপন করতে রাস্তায় দৌড়াতাম, সেই দলেই আজ খেলছি; এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না।’




