ফুটবল জাদুকরের বিদায়বেলাটা হয়তো এতটা করুণ হওয়ার কথা ছিল না! ২০২০ সালের সেই বিষণ্ণ দিনে পুরো বিশ্বকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিয়াগো ম্যারাডোনা। কিন্তু তাঁর এই চলে যাওয়া কি নিছকই কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি চরম অবহেলার শিকার? মৃত্যুর প্রায় চার বছর পর আর্জেন্টিনার আদালতে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, মৃত্যুর ঠিক আগে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের শরীর বারবার বিপদের সংকেত দিচ্ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা সেই সতর্কবার্তাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেননি।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বুয়েনস আইরেসের সান ইসিদ্রো আদালতে ম্যারাডোনার মৃত্যু সংক্রান্ত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলি এসব বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান, বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ম্যারাডোনার শরীরে বেশ কিছু মারাত্মক জটিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তাঁর শরীরের নিচের অংশে ও ফুসফুসে পানি জমছিল, আঙুল ফুলে গিয়েছিল এবং শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের মতো ভয়াবহ উপসর্গ দেখা দিয়েছিল।
আদালতে বিচারকের সামনে ক্যাসিনেলি চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শরীরে এভাবে পানি জমার কারণে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কোনো চিকিৎসক এই বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখারও প্রয়োজন মনে করেননি। এই বিশেষজ্ঞের মতে, চিকিৎসকদের গাফিলতি এতটাই প্রকট ছিল যে, ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পরও তাঁরা চিকিৎসার ধরনে কোনো পরিবর্তন আনেননি।
ক্যাসিনেলি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ম্যারাডোনার মতো একজন সংকটাপন্ন রোগীকে হাসপাতালে না রেখে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তটিই ছিল চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় ভুল।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ম্যারাডোনার মস্তিষ্কে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এরপর তিনি হৃদরোগ এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি জমার (পালমোনারি এডিমা) কারণে মারা যান। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকার এমন অকাল মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িত সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




