আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর বাবা হোর্হে মেসি আর নেই। শনিবার রোসারিওর এক হাসপাতালে ৬৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খবর পেয়ে সেদিন রাতেই উড়োজাহাজে করে রোসারিও পৌঁছে যান মেসি। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি একটি ব্যক্তিগত স্মরণসভায় অংশ নেন।
এই কষ্টের সময়ে ইন্টার মিয়ামির ড্রেসিংরুমেও নেমে এসেছে নীরবতা ও বেদনা। দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মুরা মঙ্গলবার জানান, পুরো দলই এই ঘটনায় মর্মাহত। তিনি বলেন, “দূর থেকে হলেও আমরা লিওর পাশে আছি। সে এখন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমরা সেটা বুঝতে পারছি। সে জানুক আমরা তাকে সমর্থন করছি এবং সবসময় তার পাশে থাকব।”
মুরা আরও যোগ করেন, একজন মানুষ হিসেবে, সহকর্মী হিসেবে এবং পুরো ক্লাব হিসেবে তারা অত্যন্ত দুঃখিত। লিও যখনই ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত হবে, তারা সেখানেই থাকবেন এবং সামনের সবকিছুতে তাকে সমর্থন করবেন।
ক্লাবের কোচ গিয়ের্মো হয়োসও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, হোর্হে মেসির মৃত্যুতে ড্রেসিংরুমে গভীর বেদনা ছড়িয়ে পড়েছে। “লিওকে নিয়ে যা ঘটেছে, তা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সবাই এর প্রভাব অনুভব করেছি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় বলার মতো শব্দও পাওয়া যায় না। ব্যথাটা এত তীব্র যে এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকা যায় না।”
রোববার ন্যু স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে হোর্হে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বড় পর্দায় তাঁর নাম প্রদর্শন করা হয়। লিগস কাপের ম্যাচে মেক্সিকোর মন্তেরির বিপক্ষে মিয়ামির খেলোয়াড়রা কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামেন।
এখন লিগস কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার ভোরে লিওনের মুখোমুখি হবে ইন্টার মিয়ামি। মেসি কবে দলে ফিরবেন, সে বিষয়ে কোচ হয়োস কোনো নির্দিষ্ট সময় জানাননি। দোবলে আমারিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মেসিকে অনির্দিষ্টকালের ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি যতদিন ইচ্ছা ছুটি কাটাতে পারবেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিয়ামিতে ফিরবেন তিনি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, হোর্হে মেসির মৃত্যু লিওনেলকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এ কারণে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে তার দায়িত্বও স্থগিত থাকবে।




