সবুজ গালিচায় ফুটবলের ব্যাকরণ প্রতিদিন নতুন করে লিখছেন তিনি। পায়ের জাদুতে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপানো যার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, সেই হ্যারি কেইন আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা কাণ্ডারি বলা হয়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অবিশ্বাস্য সব গোলবন্যা ভাসিয়ে ইউরোপের বাকি সমস্ত ফরোয়ার্ডকে পেছনে ফেলে আবারও নিজের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করলেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
জার্মান ক্লাব এফসি বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে ইউরোপের বর্ষসেরা গোলদাতার খেতাব 'গোল্ডেন শু' আবার ফিরে এসেছে ব্যাভারিয়ানদের তাঁবুতে। ২০২৪ সালের সাফল্যের পর নিজের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয় করলেন কেইন। আগামী ১৯ আগস্ট বায়ার্ন মিউজিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানে তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। একাধিকবার গোল্ডেন শু জেতা ইতিহাসের হাতে গোনা কয়েকজন মহাতারকার সারিতে এখন কেইনের নাম, যার ওপরে কেবল রয়েছেন লিওনেল মেসি ও রোনালদো।
বিদায়ী মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতিয়ে মোট ৬৫টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন কেইন। এই সময়টাতে তিনি প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন অবিশ্বাস্য ৭৩ বার এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৮টি গোল। একবিংশ শতাব্দীতে একক মৌসুমে কোনো ফুটবলারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করার ইতিহাস এটি, যার ওপরে কেবল ২০১১-১২ মৌসুমে মেসির তৈরি করা রেকর্ডটি রয়েছে। এর পাশাপাশি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের যেকোনো একক ক্লাবের হয়ে দ্রুততম ১০০ গোলের নতুন রেকর্ডও এখন ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের দখলে।
জার্মান ফুটবলে কেইনের আধিপত্য এখন একচেটিয়া। টানা তৃতীয়বারের মতো বুন্দেসলিগার শীর্ষ গোলদাতার ট্রফি নিজের কাছে রাখার পাশাপাশি ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে অভিযান শেষ করেছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। থ্রি লায়ন্সদের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বাছাইপর্ব ও মূল পর্বে দলের কাণ্ডারি হয়ে ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তাদের সর্বকালের সেরা সাফল্য এনে দিয়েছেন। এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সবচেয়ে সফল ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।




