ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাকে "দুর্বল করার জন্য একটি সুসংগঠিত ও চলমান চেষ্টা" চালানো হচ্ছে বলে শনিবার এক কড়া বিবৃতিতে দাবি করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপকে প্রাইভেট ফান্ডিং বা বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় আনার বিতর্কিত ও বাতিল হওয়া প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূচনা।
সম্প্রতি ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ-এ ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ইনফান্তিনোর এক কর্মচারীর সাথে কথিত প্রেম এবং পরবর্তীতে তাঁকে বিপুল অংকের বিদায়ী অর্থ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর পরপরই ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের চাপ আরও জোরালো হতে থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত শনিবারের ওই কড়া বিবৃতিতে ফিফা জানায়, "সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফিফা এবং এর সভাপতির বিষয়ে ভিত্তিহীন দাবি এবং প্রমাণিতভাবে মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গঠনমূলক ও সুনির্দিষ্ট পর্যালোচনাকে ফিফা সবসময় স্বাগত জানায়, কিন্তু পর্যালোচনার অজুহাতে তথ্য বিকৃত করা বা অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ নেই। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ফিফা কঠোর আইনি ও আনুষ্ঠানিক জবাব দেবে।"
দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালিয়ান-সুইস এই আইনজীবী উয়েফায় থাকা অবস্থায় তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে এক নারী কর্মচারীকে পদোন্নতি দেন। পরে ওই নারী চাকরি ছাড়ার সময় তাঁকে ছয় অঙ্কের বিদায়ী ভাতার পাশাপাশি একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ পড়ার জন্য প্রায় ৪৫ হাজার পাউন্ড (৬০,৭০০ ডলার) দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাথে আলাপে উয়েফা উক্ত কর্মচারীকে বিদায়ী ভাতা ও এমবিএর ফি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
আগামী বছরের মার্চে চতুর্থ মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচনে দাঁড়াতে যাওয়া ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার দিক থেকেই সবচেয়ে বড় বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপ নিয়ে প্রাইভেট বিনিয়োগের চিন্তা বাতিল করা হলেও উয়েফা তাদের বয়কট হুমকি প্রত্যাহার করেনি।
বিবৃতিতে ফিফা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর গণতান্ত্রিক সমর্থনের তোয়াক্কা না করে কোনো মহল মিথ্যাচার বা গুজবের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সভাপতিকে সরানোর চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।




