বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে মামলা-বিচারের মুখোমুখি হতে এবং ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নিতে প্রস্তুত আছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দুই বছরের প্রবাস জীবন ও দেশে ফেরা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া ফোনে সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তবে আমি আনন্দের সাথেই দেশে ফিরতে, আদালতের মুখোমুখি হতে এবং যা কিছু করা দরকার তা করতে প্রস্তুত। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।"
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হওয়ার পাশাপাশি গত দেড় বছর ধরে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে।
হত্যা মামলার বিষয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে সাকিব বলেন, "এটি অত্যন্ত হাস্যকর একটি মামলা। আমি গত ১০ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ করদাতা, সব কর ঠিকমতো পরিশোধ করেছি, অথচ তদন্তের নামে দেড় বছর ধরে আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্তে কিছু না পেলে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত।"
রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনা বা দল থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে সাকিব বলেন, "ক্যাপ্টেন (শেখ হাসিনা) যা বলবেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আমাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।"
দেশে ফেরার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, "আমাকে নিশ্চিত করার পর বিমানে উঠেছিলাম, কিন্তু ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কী পরিবর্তন হলো জানি না! মাঝপথে দুবাইয়ে নামার পর আমাকে দেশে ফিরতে বারন করা হয়। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।"
দীর্ঘ দুই বছর ধরে দেশে থাকা বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করলেও ক্রিকেট নিয়ে এখনও আশাবাদী সাকিব, "আমি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছি, খেলাটা উপভোগও করছি এবং পারফর্মও করছি। তবে বয়স এখন আর আমার পক্ষে নেই, তাই আমি খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে পারব না। তবুও ইচ্ছা আছে দেশের মাটিতে বিদায়ী সিরিজ খেলার এবং ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার।"




