প্রাইভেট ইনভেস্টরদের কাছে বিশ্বকাপের বাণিজ্য স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর পদ ধরে রাখার পথ দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। ইংলিশ ও ওয়েলস ফুটবলের পর এবার সুইডেন, সার্বিয়া এবং নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনও প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
আগামী ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদের জন্য মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া (১৮ মার্চ) নির্বাচনে ইনফান্তিনোর শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে পাঁচজন সম্ভাব্য হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম জোরেশোরে আলোচনায় উঠে এসেছে:
১. ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি (প্রেসিডেন্ট, কনকাকাফ)
উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ এর প্রধান ও কানাডিয়ান ব্যবসায়ী ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নির্বাচন করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। কনকাকাফ ফিফার এই প্রাইভেট ইকুইটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, যদিও তারা উয়েফার মতো সরাসরি বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দেয়নি। উত্তর আমেরিকায় সফলভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের পর বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষপদে আসার শক্তিশালী দাবিদার মনে করা হচ্ছে তাঁকে।
২. আলেকজান্ডার সেফেরিন (প্রেসিডেন্ট, উয়েফা)
স্লোভেনিয়ান আইনজীবী ও ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান আলেকজান্ডার সেফেরিন শুরু থেকেই ইনফান্তিনোর নীতি ও একলা চলার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী। ফিফার সাথে ক্রমাগত বিরোধের জের ধরে গত মাসে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালও বয়কট করেছিলেন তিনি। ইউরোপ জুড়ে ইনফান্তিনোবিরোধী জোটে তিনি অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্ব।
৩. শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা (প্রেসিডেন্ট, এএফসি)
ফিফা কাউন্সিলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাহরাইনের প্রভাবশালী সংগঠক শেখ সালমান এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রধান। এর আগে বিশ্বকাপ দল সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার ফিফার ধারণার কড়া বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। প্রাইভেট ফান্ডিং ইস্যুতেও ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার "মৌলিক দুর্বলতা" প্রকাশ্যে এনে ইনফান্তিনোর নীতিকে তোপ দেগেছেন এই এশীয় ফুটবল কর্তা।
৪. নাসের আল-খেলাইফি (প্রেসিডেন্ট, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন)
কাতারি ক্রীড়া নির্বাহী ও ফরাসি ক্লাবের প্রভাবশালী প্রধান নাসের আল-খেলাইফিকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তাদের একটি অংশ একজোট হতে শুরু করেছে। উয়েফার ভেতরে তাঁর শক্তিশালী প্রভাবের কারণে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মূল চ্যালেঞ্জার হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাব করছেন অনেকে।
৫. লিস ক্লাভনেস (প্রেসিডেন্ট, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন)
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী সংগঠকদের একজন, নরওয়ের লিস ক্লাভনেস। ফিফার শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠগুলোর একটি ছিলেন তিনি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে আমেরিকান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের ওপর থেকে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও ফিফা এথিক্স কমিটিতে অভিযোগ তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ক্লাভনেস, যা ট্রাম্প-ইনফান্তিনো সম্পর্কের অস্বচ্ছতা বিশ্বমঞ্চে ফাঁস করে দিয়েছিল




