বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে এবার বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নার্মেন্টগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পরই এই উদ্যোগ নতুন করে জোরালো হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনো নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে উয়েফা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশই এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। ফিফার নিয়ম অনুসারে মাত্র ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন পেলেই এ ধরনের প্রস্তাব আনা সম্ভব।
সম্প্রতি ফিফা তাদের বিতর্কিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বাইরের বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ফিফার দাবি ছিল, এতে সদস্য দেশগুলো আরও বেশি অর্থ পাবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রকল্পটি বাতিল করতে বাধ্য হয় সংস্থাটি।
প্রকল্প বাতিল হওয়া সত্ত্বেও উয়েফা ফিফার নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এই ব্যর্থ উদ্যোগের মাধ্যমে ইনফান্তিনো ফুটবল বিশ্বের আস্থা হারিয়েছেন। উয়েফার সঙ্গে একযোগে কাজ করছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ। উয়েফা স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, “ফুটবল বিক্রি করা যাবে না।” যারা এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, ২০১৬ সালে সভাপতি হওয়ার সময় ইনফান্তিনো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি রক্ষা করতে পারেননি।
ফিফা কাউন্সিলের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলের অন্তত ১৯ জন সমর্থন দিলে দুই সপ্তাহের মধ্যে জরুরি বৈঠক ডেকে ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হতে পারে। তাতে কাজ না হলে ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন নিয়ে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে। সেই প্রস্তাব পাস করতে ভোটাভুটিতে ১০৬টি দেশের সমর্থন প্রয়োজন। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ১৪৩টি দেশ অবস্থান নিয়েছিল।
তবে সব দেশের সমর্থন পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং কাতারের মতো কিছু দেশের সমর্থনে ইনফান্তিনো হয়তো টিকে যেতে পারেন। কিন্তু ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তার জয়ের সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপিয়ান লিগসের প্রধান ক্লাদিউস শাফার বলেছেন, তৃতীয় পক্ষকে আর্থিক সুবিধা দিতে বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমন বিতর্কিত ঘটনার পর কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাভাবিক পরিণতি হওয়া উচিত পদত্যাগ বা অপসারণ। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত নাম কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি।
এই পরিস্থিতিতে ফিফার নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসতে পারে কিনা, তা এখন ফুটবল বিশ্বের বড় আলোচ্য বিষয়।




