ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর আর্জেন্টিনায় এখনো বিষণ্ণতা কাটেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক ষড়যন্ত্রের গল্প ঘুরছে। কিন্তু জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা এসবকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, হারটা শুধুই মাঠের খেলার ফল।
অলিম্পিক মার্শেইয়ের এই সেন্টার ব্যাক সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের মনগড়া গল্পে কান না দিতে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নিজের মাও যখন এমন গুজবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, তখন তিনি সরাসরি থামিয়ে দিয়েছিলেন।
ফের্নে অ্যান্ড গ্রেগো ইউটিউব শোতে উপস্থাপক গ্রেগো রোসেলোর প্রশ্নের জবাবে মেদিনা মায়ের সঙ্গে কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আরে চলো তো! তুমিও কি এসবের মধ্যে ঢুকছ? এসব ফালতু কথা বন্ধ করো। আমাকে আর বিরক্ত কোরো না।’
মেদিনা স্পষ্ট করেন, আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কোনো রহস্য বা অঘটন ঘটেনি। যা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ফুটবলের কারণেই। এর আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাউডিও তাপিয়া, কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাও একই কথা বলেছিলেন। তাদের অবস্থানের সঙ্গেই সুর মিলিয়েছেন তিনি।
রিভার প্লেটের সাবেক এই খেলোয়াড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, তুমি একটা বোকা। তুমি কী ভাবো, আমরা সেখানে কী করতে গিয়েছিলাম? আমরাও সবার মতো জিততে চেয়েছিলাম। জিতলে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। কিন্তু আমরা হেরে গেছি, এটা মেনে নিতেই হবে।’
দেশে ফিরে বাড়ির বেলকনি থেকে প্রতিবেশীদের উদ্দেশেও তিনি একই বার্তা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘এসব ভুয়া গুজবে কান দেবেন না। ছবি-ভিডিওতে দেখেছেন, আমরা সবসময় একটা দারুণ পরিবারের মতো ছিলাম। হারের পর আমরা খুব কষ্টে আছি। সেই কষ্টেই কয়েকজন সতীর্থ হয়তো সবার সামনে আসেননি। মন খারাপ আছে, বিষণ্ণ আছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ। জীবনে এর চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।’
মেদিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝের গভীর বন্ধনকেই দলের মূল শক্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘পাশে যখন এমন মানুষ থাকে যারা শুধু দুর্দান্ত খেলোয়াড় নন, মানুষ হিসেবেও চমৎকার—তখন তাদের জন্য মাঠে সর্বস্ব উজাড় না করে উপায় থাকে না।’




