রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আমার এতো ইগো নেই, জেন-জিদের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে: সালাহউদ্দিন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

আমার এতো ইগো নেই, জেন-জিদের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে: সালাহউদ্দিন

ক্রিকেটের মাঠে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা যতই থাকুক না কেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সবকিছু। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা এখন মোবাইল আর প্রযুক্তির জগতে বড় হচ্ছে। তাদের মানসিকতাও আগের মতো নয়। সেই বাস্তবতা মেনেই এখন কাজ করছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। জাতীয় দল থেকে কিছুটা দূরে সরে হাইপারফরম্যান্স বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে তিনি এখন তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটারদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

সালাহউদ্দিন এখন হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন। কোচিংয়ে বহু বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও এই দায়িত্বকে তিনি চ্যালেঞ্জিং বলেই মনে করছেন। 

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘এখন যেহেতু এইচপিএতে এসেছি, তারা আমার চেয়ে চার প্রজন্ম পেছনে। এখন আমাকে মানিয়ে নিতে হবে। কোচিংয়ের কিন্তু এটা একটা বড় দিক যে, কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছি। কারণ, তারা এখন জেন-জি প্রজন্মের। তারা মোবাইলের যুগের। তাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। নাহলে তাদের সঙ্গে কোচিং করা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।’

জাতীয় দল বা বিপিএল-ডিপিএল থেকে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। তারা অনেকটাই পরিণত। কিন্তু এইচপি-তে কাজ করতে হচ্ছে তৃণমূলের ক্রিকেটারদের নিয়ে। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তারা দেখলে হয়তো আমাকে একটু ভয় পেতে পারে। সালাউদ্দিন স্যার এসেছে। একটা দূরত্ব থাকবেই। তবে তাদের সঙ্গে মানিয় নিয়ে কীভাবে তাদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করতে পারি, সেটাই লক্ষ্য থাকতে হবে।’

জাতীয় দল থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন নন তিনি। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে। অভিজ্ঞ হোক বা তরুণ যার সঙ্গেই কোচিং করুন না কেন, তিনি উপভোগ করেন। তার কথায়, ‘দিনশেষে আমি যে চাকুরিটা করি, আমি তো কোচিং করাই। তো কোচ হিসেবে আমার আসলে আমি যদি কোচিং মাঠে থাকতে পারি, কোচিং করাতে পারি বাচ্চাদের, যার সঙ্গেই করি, আমি এটা সবসময় উপভোগ করি। আমার এতো ইগো নেই যে আমাকে সেরকম বড় খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। তবে একটা জিনিস আমার মনে রাখতে হবে যে, আমি যে প্রজন্মের, তার পরের দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারব।’

২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান। প্রথমে চুক্তি ছিল ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত। পরে সেটা বাড়িয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত করা হয়।

সামনে আসছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজ নিয়েও কথা হয়েছে তার সঙ্গে। নাহিদ রানা চোটের কারণে দুই ম্যাচের সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। অথচ তার দ্রুতগতির বোলিং ও বাউন্সার নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছিল। সালাহউদ্দিনও রানাকে নিয়ে রোমাঞ্চিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে নাহিদ রানাকে নিয়ে আমিও খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম। কবে দেখব রানা অসিদের ব্যাটারদের আসলে বাউন্সার মারতেছে। খেলার অন্যরকম একটা রোমাঞ্চ থাকত। যেহেতু হয়নি, এখানে আফসোস করে লাভ নেই। তবে আমার মতে অন্য বোলার যারা আছে, তারাও যদি একটু বুদ্ধি করে বোলিং করতে পারে, আমার মতে তারাও অনেক ভালো করবে।’

ডারউইনে ১৩ আগস্ট প্রথম টেস্ট এবং ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশেরও ভালো অবস্থান রয়েছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর