বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও শেয়ার বিক্রির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে ফিফা পিছু হটলেও কমেনি সংকট। সিদ্ধান্ত বাতিলের পরপরই ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। শনিবার (১ আগস্ট) এক কড়া বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, ফিফা সভাপতির ওপর কেবল উয়েফা নয়, ফুটবল পরিবারের বড় একটি অংশই সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছে।
নতুন একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার প্রাইভেট ইনভেস্টরদের কাছে বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর সাথে কোনো ধরনের আলোচনা না করে আড়ালে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শুরু থেকেই তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়। উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাকে বয়কটের হুমকি দিলে শুক্রবার রাতে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হন ফিফা সভাপতি।
তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকেই সংকট নিরসনের শেষ মানছে না উয়েফা। সংস্থাটি এই পিছু হটাকে "পুরো ফুটবলের বিজয়" হিসেবে বর্ণনা করলেও বলেছে, ফিফার ওপর হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার কাজটা কেবল শুরু হলো।
বিবৃতিতে উয়েফা উল্লেখ করে, "মুখোশধারী কিছু মানুষের তৈরি গোপন আঁতাত এবং দ্রুত বাস্তবায়নের অসচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এভাবে চলতে পারি না। এই ধরনের অসাধু ও অস্পষ্ট চুক্তির পেছনের দায়িত্বশীলদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।"
২০১৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় ইনফান্তিনো স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ফিফার অর্থ সদস্য দেশগুলোর উন্নয়নে ব্যবহারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তা রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন বলেও তোপ দাগায় উয়েফা। সংস্থাটি জানায়, ফিফার বর্তমান রিজার্ভ ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফুটবলের মূল স্বার্থে তা ব্যবহার করতে পারেননি।
উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা এবং অস্ট্রেলিয়া ফুটবলের চেয়ারম্যান আন্টার আইজ্যাক ফিফার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও আলোচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আগামী ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের জন্য পুনরায় সভাপতি নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ইনফান্তিনো। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্য উদযাপন করা এই সংগঠক এখন নিজের প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হুমকির মুখে পড়েছেন, যা আগামী বছরের মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে তাঁর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পথকে কঠিন করে তুলল।




