গ্রীষ্মের ট্রান্সফার মার্কেট খুলতে না খুলতেই বার্সেলোনা দুর্দান্ত শুরু করেছিল। অ্যান্থনি গর্ডনকে দ্রুত সই করিয়ে আনা হয়, তারপর জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমিকেও দলে যোগ করা হয়। কিন্তু সেই গতি এখন থেমে গেছে। কাতালান ক্লাবটির মূল লক্ষ্য ছিল একজন শক্তিশালী সেন্টার-ব্যাক আর একজন খাঁটি সেন্টার-ফরোয়ার্ড। সেই দুই পজিশনেই এখনও কোনো বড় সাফল্য আসেনি।
স্ট্রাইকার হিসেবে শুরু থেকেই বার্সার প্রথম পছন্দ আতলেতিকো মাদ্রিদের জুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু আতলেতিকো তাকে ছাড়তে একেবারেই রাজি নয়। স্প্যানিশ পত্রিকা স্পোর্টের খবরে বলা হয়েছে, আলভারেজ না এলে বার্সেলোনা হয়তো শেষ পর্যন্ত কোনো নতুন স্ট্রাইকারই কিনবে না। কোচ হানসি ফ্লিক আলভারেজকে চান, ক্লাব কর্তৃপক্ষও সেই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্য কোনো ফরোয়ার্ডের সঙ্গে তার মানের তফাত এতটাই বেশি যে, বিকল্প খুঁজতে তারা আগ্রহী নয়।
আলভারেজ নিজেও বার্সেলোনায় আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন একাধিকবার। কিন্তু আতলেতিকো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের কাছে তাকে ছেড়ে দিতে চায় না। ফলে তিন পক্ষই এখন এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে আছে।
যদি আলভারেজকে আনতে না পারে এবং বাইরে থেকেও কাউকে না কেনে, তাহলে বার্সাকে নিজেদের স্কোয়াডের ওপরই ভরসা করতে হবে। লেভানডোভস্কির বিদায়ের পর সেই বিকল্পও খুব সীমিত। স্বাভাবিকভাবেই ফেরান তোরেসকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ভাবা হচ্ছে। তবে তার গোল করার ধারাবাহিকতা আর বক্সের ভেতরে প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোচ চাইলে দানি ওলমোকে ফলস নাইন হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে পুরো দলের খেলার ধরনই বদলে ফেলতে হবে।
প্রাক-মৌসুমে চোখে পড়া মিশরীয় তরুণ হামজা আবদেলকরিমও একটা সম্ভাবনা। বার্মিংহামের বিপক্ষে দুই গোল করে তিনি নজর কেড়েছেন। ঐতিহ্যবাহী সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে তাকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ক্লাবের আছে।
সব মিলিয়ে এখন পুরো স্ট্রাইকার পরিকল্পনা আলভারেজের সিদ্ধান্তের ওপরই দাঁড়িয়ে। তিনি না এলে বাইরে থেকে কাউকে না এনে নিজেদের খেলোয়াড়দের দিয়েই সমাধান খুঁজতে পারে বার্সেলোনা।




