শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফিফায় ইনফান্তিনোর মেয়াদ কি ফুরিয়ে এলো? বিকল্প যারা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ এএম

শেয়ার করুন:

ফিফায় ইনফান্তিনোর মেয়াদ কি ফুরিয়ে এলো? বিকল্প যারা

কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো সাফল্যের তুঙ্গে ছিলেন। কিন্তু বিতর্কিত ‘বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা’ ভেস্তে যাওয়ার পর তিনি এখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে একা ও ব্যাকফুটে থাকা অবস্থায় পড়ে গেছেন। ইউরোপের উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ার এএফসি- বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী তিন কনফেডারেশনের তীব্র যৌথ বিরোধিতার মুখে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত থমকে গেছে।

তিন প্রধান কনফেডারেশন কেবল এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানই করেনি, বরং ফিফার অভ্যন্তরীণ পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এশীয় ফুটবল সংস্থা (এএফসি) স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ঘটনাটি ফিফার পরামর্শ প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোর মৌলিক দুর্বলতাগুলো উন্মোচিত করেছে। অন্যদিকে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো এই প্রস্তাবকে ‘ফুটবলের ভবিষ্যতের ওপর আঘাত’ অ্যাখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেছেন এবং ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর অভিযোগ করেছেন যে ফিফার নিজের প্রশাসনকেই এই প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।

ইনফান্তিনোর একচ্ছত্র রাজত্ব এখন পতনের মুখে কি না, এমন প্রশ্ন উঠলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। ২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইনফান্তিনো টানা তিনবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং ফুটবলের বিশ্ব মানচিত্র তাঁর নখদর্পণে। আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় সাধারণ পরিষদে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। তবে এবার তাঁর সেই নিশ্চিন্ত পদে প্রথমবারের মতো বড় কোনো চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী দেশগুলো ইনফান্তিনোর বিকল্প খোঁজা শুরু করে, তবে বেশ কয়েকটি নাম সামনে আসতে পারে। কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি প্রশাসনিক দক্ষতা ও ২০২৬ বিশ্বকাপের সফল যৌথ নেতৃত্বের কারণে অন্যতম শক্ত দাবিদার হতে পারেন। এছাড়া ২০১৬ নির্বাচনে মাত্র সামান্য ব্যবধানে ইনফান্তিনোর কাছে হারা এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা আবারও বড় প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। অন্যদিকে পিএসজি ও ইউরোপিয়ান ক্লাব অর্গানাইজেশনের প্রধান নাসের আল-খেলাইফির নাম গুঞ্জনে থাকলেও তিনি এই পদে আসার ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন।

বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের একের পর এক পদত্যাগে ইনফান্তিনোর প্রশাসনিক একক আধিপত্যের দেয়ালগুলো এখন দৃশ্যতই ভেঙে পড়ছে। আগামী ১৮ নভেম্বর ফিফা নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। সদস্য দেশগুলো কি আগামী মার্চে ইনফান্তিনোকে শেষ চার বছরের মেয়াদ দেবে, নাকি বিশ্ব ফুটবল পরিচালনায় দেখা যাবে নতুন কোনো মুখ, তা নির্ধারণে সামনের দিনগুলো অত্যন্ত সংকটপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর