ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ ও অন্যান্য প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব ও শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা এখন সম্পূর্ণ ধসে পড়ার মুখে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা- ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) এবং উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ)-এর নজিরবিহীন ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে পড়ে ফিফা এখন এক চরম শাসনতান্ত্রিক সংকটে পতিত হয়েছে।
সংকটের মূল সূত্রপাত হয় ইনফান্তিনোর এক গোপন প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে, যেখানে বিশ্বকাপসহ প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর মালিকানা বা অংশীদারিত্ব বেসরকারি ফান্ডগুলোর কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়। এই বিতর্কিত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য এবং সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে ফিফা প্রতিটি সায় দেওয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৪০ মিলিয়ন ডলার (প্রাথমিক ২০ মিলিয়ন ডলারসহ) অনুদান দেওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দেয়।
এই উদ্যোগের প্রথম ও সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে ইউরোপ থেকে। উয়েফার অন্তর্ভুক্ত সকল ৫৫টি সদস্য দেশ জরুরি বৈঠক শেষে সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব প্রত্যাখানের সিদ্ধান্ত নেয়।
উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য বা বিনিয়োগের খাত হতে পারে না। এটি খেলোয়াড়, দল ও ফুটবল ভক্তদের বহু প্রজন্মের গড়ে তোলা এক ঐতিহাসিক ক্রীড়া ঐতিহ্য, যার কোনো অংশই প্রাইভেট ফান্ড বা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। শুধু প্রত্যাখ্যান করেই ক্ষান্ত থাকেনি উয়েফা; তারা চূড়ান্ত হুমকি দিয়ে জানিয়েছে- ইনফান্তিনো যদি এই পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ বাতিল না করেন, তবে ইউরোপের সবকটি জাতীয় দল ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপসহ সব ধরণের প্রতিযোগিতা বয়কট করবে।
উয়েফার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কনকাকাফ -এর ৪১টি সদস্য দেশও আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব ছুড়ে ফেলেছে। কনকাকাফ প্রতিনিধিরা প্রক্রিয়াটির চরম অস্বচ্ছতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তড়িঘড়ি করা এবং যথাযথ প্রশাসনিক প্রোটোকল না মানার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাছাড়া সদ্য সমাপ্ত ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপ আয়োজনের পর কেন হঠাৎ এভাবে বেসরকারি বিনিয়োগের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
ক্ষমতার ভারসাম্য কার দিকে?
ফিফার মোট ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে উয়েফা (৫৫) এবং কনকাকাফ (৪১) মিলে ৯৬টি দেশ সরাসরি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অর্থাৎ বিশ্ব ফুটবলের প্রায় অর্ধেক দেশ এখন ফিফা সভাপতির বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের মূল শক্তি ও পরাশক্তিগুলোর সিংহভাগই এই ৯৬টি দেশের অন্তর্ভুক্ত। ফলে ইনফান্তিনো ও ফিফা প্রশাসনের ওপর তৈরি হওয়া নজিরবিহীন রাজকীয় ও রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রস্তাবটি পাশ হওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন থেকেও একই ধরণের বার্তা আসলে বিশ্বকাপ 'বিক্রি'র এই মহাযজ্ঞ পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।




