বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ শেষ হতে না হতেই ফাইনালের উদযাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার সঙ্গে স্পেনীয়দের হাতাহাতির ঘটনায় ফিফা কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
স্পেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার লিয়েন্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। তাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ফিফা এই ঘটনায় শৃঙ্খলাবিধি অনুসারে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিয়েছে।
ফিফা বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফিফা শৃঙ্খলাবিধি অনুসারে, অভিযুক্তদের এখন তাদের অবস্থান উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে, যারপর ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি যথাসময়ে একটি সিদ্ধান্ত জানাবে।’
‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬এ আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি দলের বেশ কয়েকটি ম্যাচের সাথে সম্পর্কিত বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, দেরিতে খেলা শুরু, ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলতে ব্যর্থতা, দল ও দর্শকদের দ্বারা অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের দ্বারা বস্তু নিক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি শৃঙ্খলাবিধির ১৩ নং অনুচ্ছেদের ২(গ) ধারা (ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে অক্রীড়াসুলভ প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার), ১৪ নং অনুচ্ছেদের ৫ (দলের অসদাচরণ), ১৫ নং অনুচ্ছেদ (বৈষম্য ও বর্ণবাদী গালিগালাজ) এবং ১৭ নং অনুচ্ছেদের (ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা) সম্ভাব্য লঙ্ঘনের জন্য আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু করেছে।’
ফাইনালের পর স্পেন দল যখন শিরোপা উদযাপনে মেতে ছিল, তখনই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এটি শুধু ফাইনালের সঙ্গে যুক্ত নয়, পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা দল ও তাদের সমর্থকদের বেশ কয়েকটি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে ফিফা।
এর মধ্যে রয়েছে বৈষম্যমূলক স্লোগান, অঙ্গভঙ্গি, ম্যাচ দেরিতে শুরু, নিরাপত্তা প্রোটোকল না মানা, অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের মতো বিষয়। ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
এছাড়া আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের গ্যাভির বিরুদ্ধেও অখেলোয়াড়ি আচরণের অভিযোগে আলাদা মামলা হয়েছে। তবে পারেদেস, মোলিনা ও আয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর। এটি গ্যাভি, রদ্রি ও দানি ওলমোর সঙ্গে মাঠের সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত।
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। নির্ধারিত সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের ক্রস থেকে ফেররান তরেসের বাম পায়ের শটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। এরপরই শুরু হয় উদযাপন, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।




