মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ভারতের জন্যই অলিম্পিকে ক্রিকেট, চোখ বিলিয়ন ডলারের বাজারে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতের জন্যই অলিম্পিকে ক্রিকেট, চোখ বিলিয়ন ডলারের বাজারে

গ্যালারিজুড়ে হাজার হাজার ভক্তের গর্জন, চার-ছক্কার রোমাঞ্চ আর কোটি কোটি মানুষের আবেগ; উপমহাদেশে ক্রিকেটের পরিচিত দৃশ্য এটি। অথচ বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসব অলিম্পিক এতদিন বঞ্চিত ছিল এই বিশাল উন্মাদনা থেকে। তবে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর অবশেষে কাটতে চলেছে। দীর্ঘ ১২৮ বছরের বিরতি ভাঙিয়ে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে আবার ফিরছে ব্যাট-বলের লড়াই। আর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে কাজ করছে ভারতের সুবিশাল ক্রিকেট বাজার ও অর্থনৈতিক শক্তি, যা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

অলিম্পিক মঞ্চে ক্রিকেটকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯০০ সালের প্যারিস গেমসে। এরপর কেটে গেছে এক শতকেরও বেশি সময়। অবশেষে ২০২৩ সালের অক্টোবরে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) ১৪১তম সেশনে অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। জানা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছয়টি করে দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দল বাছাইয়ের নিয়মাবলী এবং ম্যাচের ভেন্যু এখনো নির্ধারিত না হলেও, সিদ্ধান্তটি ক্রীড়াবিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ক্রিকেটকে ফেরানোর এই সিদ্ধান্ত যে কেবল একটি খেলার অন্তর্ভুক্তি নয়, বরং গভীর এক বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশ, তা আইওসির ক্রীড়া পরিচালক পিয়েরে ডুক্রের বক্তব্যেই পরিষ্কার। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেট দীর্ঘদিন অলিম্পিকের বাইরে ছিল। ফলে যেসব দেশে ক্রিকেট সবচাইতে জনপ্রিয়, সেসব অঞ্চলে অলিম্পিক সেভাবে বাজার তৈরি করতে পারেনি। তাই অলিম্পিকে ক্রিকেটের সংযোজন দুই পক্ষের জন্যই দারুণ এক জয়ের বার্তা নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে অলিম্পিক পাবে কোটি কোটি নতুন দর্শক, অন্যদিকে ক্রিকেট অনুরাগী দেশগুলোতে অলিম্পিকের আবেদন পৌঁছাবে নতুন উচ্চতায়।

বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের মূল চালিকাশক্তি হলো ভারত। স্পনসরশিপ, ব্রডকাস্টিং রাইটস, ডিজিটাল স্ট্রিমিং কিংবা আইপিএলের মতো লিগ সবক্ষেত্রেই ভারতের একছত্র প্রভাব বিদ্যমান। আইওসি এই বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চায়। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে অলিম্পিকের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলারে। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্রিকেট যুক্ত হওয়ায় ২০২৮ সালের এই স্বত্বের মূল্য পূর্বের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যে অনেক বিশ্বমানের প্রচার সংস্থা এই স্বত্ব কেনার জন্য আইওসির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

আইওসির এই পদক্ষেপ কেবল একটি নির্দিষ্ট আসরকে ঘিরে নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতার ফল। ভারতের চোখ এখন ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের দিকে। দেশটির ক্রীড়া বাজারের এই সম্ভাবনা ও আগ্রহকে মাথায় রেখে আইওসি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। তাই লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের পুনর্জন্ম নিছক খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ নেই; এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে ভারতের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী, বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক বাজার এবং বিশ্ব ক্রীড়া সংস্কৃতির এক নতুন মোড়।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর