নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে চারটি দলীয় ইভেন্টে ট্রফি জিতে দেশের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে রংপুর বিভাগ। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফুটবল বালিকা বিভাগের চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শিরোপা হাতে খোলা পিকআপে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তারা। এ সময় পথচারী ও নগরবাসী হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান চ্যাম্পিয়নদের।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর আগে রংপুর স্টেডিয়াম থেকে খোলা পিকআপে করে খেলোয়াড়রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬–এ রংপুর অঞ্চল থেকে প্রায় ১৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তারা আটটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে চারটি দলীয় ইভেন্টে ট্রফি জেতেন। ফুটবল ও কাবাডির বালিকা বিভাগে রংপুর চ্যাম্পিয়ন হয়। ক্রিকেট ও কাবাডির বালক বিভাগে রানার্সআপ হয় দলটি।

ব্যক্তিগত ইভেন্টেও সাফল্য পেয়েছে রংপুর। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে একজন প্রতিযোগী রৌপ্য এবং লংজাম্পে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ব্যাডমিন্টনে তৃতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি জুডোতে একটি স্বর্ণ এবং মেয়েদের লংজাম্পে একটি ব্রোঞ্জ পদকও পেয়েছে রংপুর।
ফুটবল দলের খেলোয়াড় জয় আক্তার নীলা বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ সহজ ছিল না। প্রতিটি ম্যাচে কঠিন লড়াই করে আমরা ফাইনালে উঠেছি। পরে রাজশাহী বিভাগকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছি। এই অর্জন আমাদের জন্য অনেক বড়।’
দলের আরেক খেলোয়াড় বিথী কিসকু বলেন, ‘শিরোপা জয়ের পর নিজ এলাকায় মানুষের ভালোবাসা ও সংবর্ধনা আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে চাই।’
নারী ফুটবল দলের কোচ রুমা আক্তার বলেন, ‘নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরেই আমাদের দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের। এখান থেকেই মেয়েরা আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাবে এবং একদিন জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশা করি।’
আরেক কোচ মিলন খান বলেন, ‘এই মেয়েদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক সংগ্রামের গল্প। নিম্ন ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে নানা বাধা ও সামাজিক বিদ্রূপ উপেক্ষা করে তারা এই অর্জন করেছে। তারা এই সাফল্যের পূর্ণ কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টিস্নাত দিনে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ির যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ সেই আয়োজনের সাফল্য উদ্যাপন করছি। বিজয়ী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তাদের গড়ে তোলার পেছনে যারা কাজ করেছেন, সবাই অভিনন্দনের দাবিদার। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোতালেব হোসেন সরকার, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ফুটবল বালিকা বিভাগের ফাইনালে রাজশাহী বিভাগকে ৪–০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর। একই আসরে কাবাডির বালিকা বিভাগেও শিরোপা জিতে রংপুর। এছাড়া ক্রিকেট ও কাবাডির বালক বিভাগে রানার্সআপ হয়ে মোট চারটি দলীয় ইভেন্টে ট্রফি অর্জন করে বিভাগটি।
প্রতিনিধি/এসএস




