মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ব্যালন ডি’অর জিতলেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যায়? অদ্ভুত ‘অভিশাপ’!

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যালন ডি’অর জিতলেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যায়? অদ্ভুত ‘অভিশাপ’!

বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের হাতে ব্যালন ডি’অর তুলে দেওয়ার পরই যেন বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি দূরে সরে যায়, এমন এক অদ্ভুত প্রবণতা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে ফুটবলে।

ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই পুরস্কার জেতার পর পরবর্তী বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যেন অসম্ভব হয়ে পড়ে। ১৯৫৬ সাল থেকে শুরু করে এই ধারা বারবার দেখা গেছে।

আলফ্রেদো ডি স্টেফানো ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপেই খেলার সুযোগ পাননি। জোহান ক্রুয়েফ, মিশেল প্লাতিনি, রবার্তো ব্যাজিও, রোনাল্ডো (ব্রাজিলিয়ান) এবং রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা ব্যালন ডি’অর জয়ের পর বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেননি। কেউ ফাইনালে হেরেছেন, কেউ আগেই ছিটকে গেছেন।

অনেকেই ফাইনাল বা সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন, কিন্তু বিশ্বকাপের শিরোপা তাঁদের হাতে ওঠেনি। এই পরিসংখ্যান ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি সত্যিই ‘ব্যালন ডি’অর অভিশাপ’?

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি এই ধারায় বড় রকমের পরিবর্তন এনেছিলেন। ২০২১ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জিতিয়ে অনেককে ভেবেছিলেন অভিশাপ শেষ হয়েছে।

তবে বিতর্ক এখনও থেমে নেই। কারণ ২০২২ সালের বিশ্বকাপ নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় টুর্নামেন্ট চলাকালীন ব্যালন ডি’অরের মালিক ছিলেন করিম বেনজেমা। তিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে পুরস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু চোটের কারণে বেনজেমা একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি এবং ফ্রান্স ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয়।

তাই কেউ কেউ বলছেন, যদি বিশ্বকাপ চলাকালীন যিনি ব্যালন ডি’অর ধরে রেখেছিলেন তাঁকে বিবেচনা করা হয়, তাহলে অভিশাপ এখনও অটুট রয়েছে।

যাই হোক, কুসংস্কারের কথা বাদ দিলেও এই পরিসংখ্যান একটা বড় সত্য তুলে ধরে, ব্যক্তিগত দ্যুতি একার পক্ষে দলীয় সাফল্য নিশ্চিত করা কতটা কঠিন। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য শুধু একজন তারকার ঝলক নয়, পুরো দলের সম্মিলিত লড়াই ও ভাগ্যেরও প্রয়োজন হয়।

ব্যালন ডিঅর বিজয়ী পরবর্তী বিশ্বকাপে তাদের ফলাফল

 ব্যালন ডিঅর -পরবর্তী বিশ্বকাপ -ফলাফল                 

 ১৯৫৭ – আলফ্রেদো ডি স্টেফানো—১৯৫৮ —স্পেন যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ

 ১৯৬১ – ওমর সিভোরি —১৯৬২—গ্রুপ পর্ব               

 ১৯৬৫ – ইউসেবিও —১৯৬৬—তৃতীয় স্থান             

 ১৯৬৯ – জিয়ানি রিভেরা—১৯৭০—রানার্স-আপ              

 ১৯৭৩ – জোহান ক্রুয়েফ —১৯৭৪ —রানার্স-আপ              

 ১৯৭৭ – অ্যালান সিমনসেন —১৯৭৮ —ডেনমার্ক যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ

 ১৯৮১ – কার্ল-হাইন্জ রুমেনিগে—১৯৮২ —রানার্স-আপ              

 ১৯৮৫ – মিশেল প্লাতিনি—১৯৮৬—তৃতীয় স্থান             

 ১৯৮৯ – মার্কো ভন বাস্টেন—১৯৯০—রাউন্ড অব ১৬            

 ১৯৯৩ – রবার্তো ব্যাজিও—১৯৯৪ —রানার্স-আপ              

 ১৯৯৭ – রোনাল্ডো —১৯৯৮ —রানার্স-আপ              

 ২০০১ – মাইকেল ওয়েন—২০০২ —কোয়ার্টার ফাইনাল        

 ২০০৫ – রোনালদিনহো —২০০৬ —কোয়ার্টার ফাইনাল        

 ২০০৯ – লিওনেল মেসি—২০১০—কোয়ার্টার ফাইনাল        

 ২০১৩ – ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো —২০১৪ —গ্রুপ পর্ব               

 ২০১৭ – ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো —২০১৮ —রাউন্ড অব ১৬            

 ২০২১ – লিওনেল মেসি —২০২২ —বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

২০২৫–উসমান দেম্বেলে—২০২৬— চতুর্থ স্থান

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর