বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক পদে আবার পরিবর্তন আসছে। মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হতে পারে লিটন দাসকে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ৫০ ওভারের এই ফরম্যাটে জাতীয় দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে পছন্দের শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন।
একই সাথে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে- উভয় সাদা বলের ফরম্যাটেই সহ-অধিনায়ক করা হতে পারে তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়কে। অন্যদিকে টেস্ট দলের নেতৃত্ব সামলে যাবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এর মাধ্যমে আবারও লাল বল ও সাদা বলের ফরম্যাটের জন্য আলাদা দুই অধিনায়কের পুরোনো কাঠামোয় ফিরতে যাচ্ছে বিসিবি।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া পরবর্তী বিসিবি বোর্ড সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন ও অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, বিসিবি সভাপতি ও নির্বাচকরা প্রথমে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব আবারও শান্তর হাতে সঁপে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটেই (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) একজন অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্তকেই তারা উপযুক্ত মনে করছেন। লিটন আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ওয়ানডে দলের দায়িত্বও তাঁর কাঁধেই উঠছে, যাতে শান্ত টেস্ট দল পরিচালনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন।
অন্যদিকে তাওহীদ হৃদয়কে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বোর্ড। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও অধিনায়কের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতান।
২০২৫ সালের ১২ জুন নাজমুল হোসেন শান্তর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব পান মেহেদী হাসান মিরাজ। চলতি বছরের এপ্রিলেও তাঁর মেয়াদ ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিল বিসিবি। তবে তাঁর অধীনে দলের প্রত্যাশিত সাফল্য না আসা, বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে ক্রমাগত ব্যর্থতাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
মিরাজের অধীনে বিদেশের মাটিতে খেলা ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টি খেলায় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজকে অধিনায়ক করার মাধ্যমে তিন ফরম্যাটে তিনজন ভিন্ন অধিনায়ক (টেস্টে শান্ত, ওয়ানডেতে মিরাজ ও টি-টোয়েন্টিতে লিটন) নিয়োগের যে অনন্য পরীক্ষা চালিয়েছিল বিসিবি, এক বছর পার হতেই সেই মডেলের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে লিটনের অধীনেই সাদা বলের দুই ফরম্যাটে ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ।




