জিম্বাবুয়ে সফরের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪৯ বলে ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতের ৩৫ রানের জয় সুনিশ্চিত করেছেন ১৫ বছর বয়সী ক্রিকেট বিশ্ববিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। তিন ম্যাচের সিরিজে ১৫১ রান সংগ্রাহক এই উদীয়মান বাঁহাতি ব্যাটার নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম 'প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ' পুরস্কারও বগলদাবা করেছেন। তবে এই কিশোর সেনসেশনের অপার সম্ভাবনায় মুগ্ধ হলেও ভারতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণ মনে করেন, ক্যারিয়ারকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে হলে ফিটনেসের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে তাঁকে।
বছরের শুরুতে ভারতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ ও বিসিসিআই-এর ক্রিকেট প্রধান হিসেবে বৈভবের উত্থান খুব কাছ থেকে দেখেছেন লক্ষ্মণ। জিম্বাবুয়ে সিরিজের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতের এই কিংবদন্তি ব্যাটার বলেন, "যে ক্ষেত্রটিতে আমরা ওর উন্নতি দেখতে চাই, তা হলো সামগ্রিক ফিটনেস। ও বয়সে একেবারেই ছোট, তবে খেলার প্রতিটি বিভাগে নিজেকে সেরা প্রমাণ করার এক অদ্ভুত ক্ষুধা আছে ওর মধ্যে। এমনকি আজ ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নেওয়ার সময় চোট পাওয়ার পরও ও মাঠ ছাড়তে চায়নি। আমাদের ফিজিও জোর করে তাকে মাঠ থেকে বের করে আনে। দলের জয়ে অবদান রাখার এই যে তাগিদ, এটাই ওকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে।"
তিনি আরও বলেন, "তাই এই সিরিজে ওর এমন পারফর্ম্যান্সে আমি মোটেও অবাক হইনি। সেঞ্চুরি মিস করায় সে কিছুটা হতাশ হয়েছিল, তবে আমরা তাকে বলেছি যে এটিই তার প্রথম বা শেষ সুযোগ নয়। সামনে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে রয়েছে এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করার মতো মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তার আছে। আমি নিশ্চিত সে আরও অনেক দূর এগোবে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে। সেই সব সম্ভাবনা ও সক্ষমতা পুরোপুরি রয়েছে তার মধ্যে।"
অভিষেক সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খুব একটা ভালো করতে না পারলেও (১৪, ১৩ ও ১৫ রান), লক্ষ্মণ মনে করেন বৈভবের ক্যারিয়ার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। গত দুই বছর ধরে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে চাপ সামলানোর যে পরিপক্কতা এই ১৪-১৫ বছরের কিশোর দেখিয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই সাফল্য লক্ষ্মণকে মোটেই অবাক করেনি। লক্ষ্মণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দিনে দিনে উন্নতির এমন ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমস্ত রেকর্ড ভাঙার ক্ষমতা রাখেন এই তরুণ।
সিরিজ সেরা হয়ে নিজের রোমাঞ্চ ধরে রাখতে পারেননি বৈভব সূর্যবংশী নিজেও। উচ্ছ্বসিত বৈভব বলেন, "ক্যারিয়ারের প্রথম প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ পুরস্কার পাওয়াটা আমার কাছে এক স্বপ্নের মতো। হারারেতে আসার পর আমাদের দুই-তিন দিনের প্রস্তুতি খুব চমৎকার ছিল। এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় উইকেট আমার পরিচিত ছিল। ক্যাপ্টেন, কোচ সহ সবাই আমাকে যেভাবে সমর্থন করেছেন, তাতে আমি সত্যি ভীষণ আনন্দিত।"




