পাঁচ ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক রোমাঞ্চে শেষ হাসি হেসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তবে পুরো সিরিজের আলোকচ্ছটা কেড়ে নিয়েছেন এক কিউই স্পিন জাদুকর। বার্বাডোজের মাঠে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ক্যারিবীয়রা দুই উইকেটের নাটকীয় জয় পেলেও, পুরো সফরজুড়ে বল হাতে মহাকাব্যিক পারফরম্যান্সে নতুন ইতিহাস লিখেছেন জেইডেন লেনোক্স। ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি সব মহারথীদের পেছনে ফেলে সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট নিজের মাথায় তুলে নিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার।
বার্বাডোজে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৮ রানের পুঁজি গড়ে নিউজিল্যান্ড। জবাবে শিমরন হেটমায়ারের অপরাজিত ৬৯ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের লড়াকু ৬১ রানের ওপর ভর করে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা। যদিও এই জয়ে স্বাগতিকদের কেবল হারের ব্যবধানই কমেছে; সিরিজের প্রথম ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ের পর টানা তিন ম্যাচ জিতে ৩-২ ব্যবধানে ট্রফি আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল সফরকারী নিউজিল্যান্ড।
শেষ ম্যাচেও ৩ উইকেট শিকার করে পুরো সিরিজে লেনোক্সের মোট উইকেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪টিতে। এর মধ্য দিয়েই তিনি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের ইতিহাসে কোনো স্পিনারের এক সিরিজে যৌথভাবে ১০ম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন। এই যাত্রায় ১৩টি করে উইকেট নেওয়া শেন ওয়ার্ন, অনিল কুম্বলে ও শহীদ আফ্রিদির মতো অলটাইম গ্রেটদের টপকে গেছেন তিনি। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে স্পিনারদের এই তালিকায় ১৮ ও ১৭ উইকেট নিয়ে প্রথম দুটি স্থান এখনো ভারতের দুই স্পিনার অমিত মিশ্র ও কুলদীপ যাদবের দখলে।
চলতি বছরের শুরুতেই ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখা লেনোক্সের জন্য এটি ছিল মাত্র তৃতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ঘূর্ণি সহায়ক উইকেটে নিজের বোলিং ধারালো করার অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন এই স্পিনার। সতীর্থ জ্যেষ্ঠ স্পিনার মিচেল স্যান্টনারকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে বৈচিত্র্য আনার কৌশল শেখাকেই নিজের এই দুর্দান্ত সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে জানিয়েছেন লেনোক্স।




