বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এমনিতেই স্নায়ুচাপের। তবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াইটি যেন ফুটবল মাঠ পেরিয়ে রূপ নিয়েছিল এক রণক্ষেত্রে। কড়া ট্যাকল, খেলোয়াড়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ আর রেফারি ইসমাইল আলফাতের বিতর্কিত বাঁশি। সব মিলিয়ে বারুদ ঠাসা এক প্রথমার্ধ। তবে মাঠের এতসব বিতর্ক ও ইংলিশদের ক্ষোভের জবাবটা শেষমেশ ফুটবল দিয়েই দিল আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের একদম শেষলগ্নে, ৮৬ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের এক জাদুকরী গোলেই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই ইংলিশদের ওপর রীতিমতো চড়াও হয়ে খেলতে থাকে লাতিন পরাশক্তিরা। আগ্রাসনের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ১০ মিনিটে সর্বোচ্চ ফাউল করার অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও গড়ে ফেলে তারা। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটেই এনজো-লিসান্দ্রোরা মোট ১২টি ফাউল করেন। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে এই অর্ধে রেফারি ইসমাইল আলফাতের পকেট থেকে কার্ড বের হয় মাত্র একবার! রেফারির এমন নমনীয় আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না থ্রি লায়নস শিবির।
ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছায়। ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানালে মেজাজ হারিয়ে অ্যান্ডারসনের মাথার পেছনে ধাক্কা দিয়ে বসেন এনজো ফার্নান্দেজ। নিশ্চিত কার্ডের অপরাধ হলেও রেফারি আলফাত ছিলেন নির্বিকার। এরপর জেদ স্পেন্সের মুখে জিউলিয়ানো সিমিওনের কনুইয়ের আঘাত কিংবা ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহামের ওপর নাহুয়েল মোলিনা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের কড়া ট্যাকল, সবকিছুই যেন রেফারির অলক্ষ্যেই রয়ে যায়। ডি-বক্সের বাইরে বেলিংহামকে বিপজ্জনক ফাউল কিংবা বল পজিশনে না থাকা অবস্থায় ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও কাউকে কোনো শাস্তি দেননি রেফারি।
লাগাতার ফাউলের পর প্রথমার্ধের শেষদিকে ইংলিশদের একটি কাউন্টার অ্যাটাক রুখতে গিয়ে জার্সি টেনে ধরে অবশেষে প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। পুরো প্রথমার্ধে হাতাহাতি আর তিনটি ফাউল করেও এনজো ফার্নান্দেজ কার্ডের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ায় ইংলিশদের হতাশা ও ক্ষোভ আরও বাড়ে।
তবে দিনশেষে মাঠের সব বিতর্ককে ছায়ায় ঢেকে দিয়ে এই এনজো ফার্নান্দেজই হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার ত্রাতা। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো হাত ফসকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই, ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ডি-বক্সের অনেক বাইরে থেকে নেওয়া এক বুলেট গতির দূরপাল্লার শটে বল জালে জড়ান তিনি। তার এই চোখ ধাঁধানো গোলেই অবিশ্বাস্য এক কামব্যাক করে স্মরণীয় এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।




